জামিয়া মিলিয়ার সেই সংগ্রামী ছাত্রী আয়েশা রেন্না হেনস্থার শিকার কেরলে

পিএম নিউজ ৩৬৫: এরাজ্যে এন.পি.আর স্থগিত করার পর কেরালা স্থগিত করে। ‘স্থগিত’ করেছে, চিরতরে বন্ধ করে দেয়নি। দুই রাজ্যই। কিন্তু প্রচারে টিভিতে সিপিএম এরাজ্যের সরকারকে আক্রমণ করে বলে, এরাজ্যে এনপিআর ‘স্থগিত’ রাখার ধোঁকা চলছে।
কেরালায় তাহলে কী চলছে?

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার প্রতিরোধ সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের জোয়ার এনেছে। জামিয়ার সেই প্রতিরোধের মুখ হয়ে ওঠেন যে ছাত্রী তাঁর বাড়ি কেরালা। আয়েষা রেন্না। আয়েষাকে তাঁর শহরেই চরম হেনস্থা করল সিপিএম কর্মীরা। আয়েষা কেরালা সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। নিজের শহরে এনআরসি-সিএএ-এনপিআর বিরোধী একটি সভায় আমন্ত্রিত হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কেরালায় পুলিশী দমনপীড়নের প্রসঙ্গও তোলেন। কেরালায় কেন এনআরসি বিরোধী আন্দোলনকারীদের জেলে পোরা হচ্ছে? মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি। বন্দীদের অবিলম্বে মুক্ত করার দাবি তোলেন। এই প্রশ্ন তোলার জন্য সিপিএম কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরে হুমকি দিতে থাকে এবং ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত আটকে রাখে।

এরাজ্যে এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে মমতা ব্যানার্জী যেমন নিজে রাস্তায় নেমেছেন, তেমনই আবার শাসক দল ছাড়া অন্য সমস্ত উদ্যোগকে ছলে বলে কৌশলে দমন করতেও তৎপর মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষত যারা এনপিআর ও অন্য বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করছে রাজ্য সরকারকে। ইতিমধ্যে ফুরফুরা পীরমহল সহ বেশ কিছু সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতাদের বাড়ি বেছে বেছে ব্যাপক নৈশ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বীরভূম মালদা মুর্শিদাবাদ হাওড়া সহ কয়েকটি জেলাতে সামান্য একটি পথসভা করার অনুমতিও দিচ্ছেনা পুলিশ। ইউপিতে পুলিশী রাজের বিরুদ্ধে কলকাতার ঢাকুরিয়াতে একটি বিক্ষোভ মিছিলে ইতিমধ্যেই পুলিশের আগ্রাসন ঘটেছে। ঢাকুরিয়াতে মিছিলে লাঠি হয়তো চালায়নি পুলিশ, কিন্তু যোগি আদিত্যনাথের কুশপুতুল পোড়াতে অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে বাধা দিয়েছে।

সিপিএমের পলিটব্যুরো মেম্বার মহম্মদ সেলিম যে ভাষায় ‘কুকুর’ বলে মোদি ও মমতার তুলনা করেছেন তা কুৎসিত। কেরালায় আন্দোলনকারীদের জেলে পোরার বিরুদ্ধে মন্তব্য করার সাহস কি তাঁর আছে? আয়েষার ওপর যে সিপিএম কর্মীরা আক্রমণ চালালো তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার সৎসাহস কি আছে সিপিএমের আছে? ঘটনাটি গত শনিবারের, কোনও বিবৃতি কি এখনও পর্যন্ত এসেছে?