বাংলায় মিমের সম্ভনা ও বাঙালির ভবিষ্যৎ নিয়ে কলম ধরলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আব্দুল মোমেন

বাংলায় মিমের সম্ভনা ও বাঙালির ভবিষ্যৎ নিয়ে কলম ধরলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আব্দুল মোমেন

আসাদুদ্দিন ওয়সী ভারতীয় রাজনীতির আইকন। এই সত্য অস্বীকার করলে মহাপাপ হবে। ওয়েসির মত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভারতীয় আইনসভায় আরো অনেক দরকার। ওয়েসি সাহেব সেইটা খুব ভালো বোঝেন। তাই ওনার প্রচেষ্টার খামতি নেই ওনার মত যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তির সংসদে নিয়ে যাওয়ার। চলতি লোকসভাতে তিনি ইমতিয়াজ জলিলের মত আইনজ্ঞকে সাংসদ হিসেবে সঙ্গি করে নিতে পেরেছেন। আরো আরো এমন ব্যক্তি ভারতীয় আইনসভায় ওনার সঙ্গি হলে অবশ্যই দলিত সংখ্যালঘুদের ভালো হতে পারে।
সদ্য মহারাষ্ট্রে ও বিহারের নির্বাচনে ওয়সী সাহেবের দল তিনটি বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। এটাও যথেষ্ট সুখবর। কিন্তু এই খুশির সংবাদের মধ্যে একটা অপবাদ নিতে হচ্ছে। সেটা হল ওয়সীর দল মহারাষ্ট্রে বিজেপির সেফটি ভাল্বের কাজ করেছে। এই প্রচার বা অপপ্রচারণা আজ নতুন নয়। এমনটা চাউর আছে দীর্ঘদিন থেকে। যাইহোক সংসদীয় রাজনীতিতে এমন অপবাদ পেতেই হয়। অপবাদের ছাপ গায়ে লাগাবোনা আবার আইনসভায় সভ্য হব তা হয়না। সুতরাং আমি ভোটে লড়াই করলে অন্যের সুবিধা হয়েযাবে এমন আশঙ্কায় নির্বাচন না লড়লে নির্বাচনে লড়া আজীবণ অধরাই থেকে যাবে।
এখন আসাযাক বাংলায় মিমের সম্ভাবনা এবং বাঙালির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষণের দিকে। ওয়েসী সাহেব সেই সমস্ত রাজ্যে বা সংসদীয় ক্ষেত্রে নির্বাচন লড়াই করার পক্ষপাতী, যেখানে দক্ষ ও যোগ্য এবং তোখড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছে। এই যোগ্যতার মাফকাঠি হিসেবে ওনার নির্বাচন বা বাছাই প্রক্রিয়া – প্রাক্তন সাংসদ, প্রাক্তন আমলা, প্রাক্তন বিচারপতি ইত্যাদি। যেখানে একাধিক এমন ব্যক্তি দলের নেতৃত্বে উঠে এসেছে সেখানেই চোখ বুঁজে নির্বাচন লড়তে নামছেন। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে তেমন কেই কি আছে? আমি কারো ছোট করার উদ্দেশ্যে বলছিনা, আজ যারা বাংলায় মিমের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে একজনও কি উল্লেখিত যোগ্যতার মাপকাঠিতে পড়েন? আর ওনাদের কি আদৌ ওয়েসী সাহেব বাংলায় মিমের নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন?
ওয়েসী সাহেবের আইনি মোড়কে চাঁচাছোলা ও ঝা়জালো বক্তব্য বর্তমান ভারতীয় নির্যাতন মুসলিম যুবকদের ভরসা যোগায়। তবে সেই ভরসা অত্যাচার থেকে মুক্তি দিতে পারেনা। তারপরেও ওয়েসী সাহেবের নামে রাজ্যে যুব সমাজের একটা অংশের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। সেই উন্মাদনার সুযোগ নিচ্ছে না তো কোন কোন মহল? অপ্রিয় সত্য কথা বলার জন্যে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। – ওয়েসী সাহেব এখনো বাংলায় আসেন নি। দল গড়ার অনুমতি দিয়েছেন কিনা তার অজানা। এই নিশ্চয়তা অনিশ্চয়তার দোলাচলের মধ্যেও স্বঘোষিত মিম নেতৃত্বের মধ্যে তিন থেকে চারটি গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে গেছে। এবং দেখা যাচ্ছে যাঁরা নেতৃত্ব গ্রহণে উদগ্রীব তাঁদের প্রায় সকলেই জুনিয়র এবং কাঙ্খিত যোগ্যতার ধারেকাছে কেউ নেই। আবার এমন কয়েক জন নেতা আছেন তাঁরা মাসে মাসে জার্সি পাল্টানোয় অভ্যস্ত।
রাজ্য বিজেপি নেতারা চাইছেন বাংলায় মুসলিম স্বার্থে বেশি বেশি আন্দোলন হোক। একটা সময় বিজেপি নেতাদের এক নেতা রাজ্যের কয়েক জন মুসলিম সংগঠনের নেতাকে পৃথক পৃথক ভাবে ডেকে বলেছে আপনারা আপনাদের কওমের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যান। প্রয়োজন অর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। বিজেপি চাইছে মুসলিম ভোট ভাগ করিয়ে দিতে। ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোট একচেটিয়া একদিকে না গেলেই ২১ এ ছক্কা। সেই সুযোগ করে দিতে অথবা করে নিতে মিম নিয়ে খেলা নয় তো?
সুতরাং অত্যাচার নিপিড়নে জর্জরিত মুসলিম ও দলিত সমাজের তারুণ্যের আবেগের ভুল প্রয়োগ না হয়ে যায়।।