শিশুর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এলো বস্তিবাসী, পাশে দাঁড়ালো “আলোর দিশারী”

পথ শিশুদের পাশে দাঁড়ালো “আলোর দিশারী”

জানি না এক সদ্যজাত সন্তানকে “মা” কিভাবে নাড়ির টান ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে যেতে পারে, তার কতটা অসহায়ত্বতা ছিল জানতে পারিনি আমরা।

আমার শহর কলকাতার বুকে এ ঘটনা নতুন কিছু নয়, আবর্জনার পাশে আস্তাকুঁড়ে ফুটপাতে আর পাবলিক টয়লেটের পাশে প্রায়শই শোনা যায় ফেলে যাওয়া সদ্যোজাতের কান্নার আওয়াজ ।হায়রে মানবজাতি, কি দোষ সেইসব দুধের শিশুদের ?কি ভাগ্য তাদের ? এখনো চরম অশিক্ষার বেড়াজাল ঘিরে রেখেছে আমাদেরকে।সমাজের এক বৃহৎ ক্ষত এই জঘন্যতম অপরাধ। না আছে সেই অপরাধের কঠোর কোনো আইনি ব্যবস্থা, না আছে কোনো প্রতিকার। বাস্তব ঘটনা দেখে ও নিজে উপলব্ধি করে আমার মনে পড়ে গেল “বাবার নাম গান্ধীজি” সিনেমাটির কথা।
সিনেমাটা দেখলেই উপলব্ধি করা যায়, এইসব শিশুদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে একটু উৎসাহিত করলে এইসব শিশুদের ভবিষ্যৎ আমরাই গড়ে দিতে পারবো।

যাইহোক বাস্তব জগতে ফিরে আসি। শিয়ালদহ মৌলালীর পাবলিক টয়লেটের পাশে গভীর রাতে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে কাতরাতে দেখে স্থানীয় বস্তিবাসীরা সাহায্য করার জন্য ছুটে আসেন। বস্তিবাসীরা মানবিকতা খাতিরে নিজেরাই সেই গভীর রাতে অন্তঃসত্ত্বা মহিলার গর্ভস্থ শিশুর ভূমিষ্ঠ হওয়ার ব্যবস্থা করেন ।বাচ্চা প্রসবের পর সেই গুনধারী জন্মদাত্রী “মা” নিজের সন্তানকে নিতে অস্বীকার করেন এবং লিখিতভাবে বস্তিবাসীদের কাছে দিয়ে যান। বস্তিবাসীদের মানবিক সত্বা দেখে বুক কেঁপেছে আমার, শিরায় বিদ্যুৎ খেলে গেছে।যে বস্তিবাসীদের নিজেদেরই ভালোভাবে মাথা গোঁজার জায়গা নেই,বাচ্চাদের স্বাভাবিক লালন-পালনের আর্থিক ক্ষমতা নেই ।তারাই কিভাবে পারে অন্যের বাচ্চার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিতে?

আমাদের শিক্ষিত সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বস্তিবাসীরা যে মানবিক দিক থেকে তারাই অনেক বড়ো মাপের মানুষ। আমি নিজে লজ্জিত।

আমাদের “আলোর দিশারী” পরিবারের কিছু সদস্য আজ সেখানে পড়াতে গিয়ে এই বাস্তবিকতার মুখোমুখি হয়েছেন। বস্তিবাসীদের সামান্য দাবী ও অনুরোধে আলোর দিশারী পরিবার তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছে ওই শিশুর লালন-পালনের অনেকটাই দায়িত্ব এই পরিবার নেবে। যখন যেভাবে সম্ভব সাহায্যের হাত বাড়াতে পিছুপা হবে না আলোর দিশারী পরিবার।

“জয় হোক মানবতার
বেঁচে থাকুক মনুষ্যত্ব
স্যালুট বস্তিবাসীদের”।

লেখক: সেখ রাহানাতুল্লাহ ( আলোর দিশারী)