দেশের সর্বোচ্চ আদালতও শাহিনবাগের কথা শুনবে,শাহিনবাগ আন্দোলনের দশটি সাফল্যের কথা জেনে নিন

দেশের সর্বোচ্চ আদালতও শাহিনবাগের কথা শুনবে,শাহিনবাগ আন্দোলনের দশটি সাফল্যের কথা জেনে নিন

শাহিনবাগ আন্দোলন শুরু হয়েছে ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯-এ। ক্রমশ এ আন্দোলনের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। চলছে দু’শোর বেশি জায়গায়। কিন্তু কেন্দ্রের সরকার দেশজুড়ে চলমান শাহিনবাগের আওয়াজ শোনার বদলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অনর্গল অভিযোগ আরোপ করেই চলেছে এবং দিল্লি নির্বাচনের প্রচারে মেরুকরণের অপচেষ্টাও করছে। কিছু পেটোয়া এজেন্সির সার্ভে বলছে, শাহিনবাগি আন্দোলনের কারণে বিজেপির ভোট ব্যাংকে নাকি কিছুটা সুবিধাও হচ্ছে। সত্যিই কি তাই? হলেও বা, কিছু পেতে গেলে কিছু দিতেও তো হয়। তো, এ আন্দোলনের ফলে ক্ষতি বেশি হচ্ছে না ফায়দা বেশি? শাহিনবাগের কোনো সাফল্য এখনও পাওয়া যায়নি কি? বিষয়টির ওপর হিন্দিতে আলোকপাত করেছেন #Mohd_Zahid আর, আমি সেটা ‘নিজের মতো করে’ তুলে ধরলাম বাংলায়।

— সমস্ত শাহিনবাগিরা শুনুন —

এ আন্দোলন কোনো সরকার গড়ার বা ফেলার জন্য নয়। এ আন্দোলন অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন, যা সারা দেশজুড়ে ও এতদিন ধরে মা-বোন-মেয়েরা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন আপনারা কারোর অপপ্রচারে প্রভাবিত হবেন না। যেহেতু এখন কিছু টিভি চ্যানেল ও পেটোয়া সার্ভে এজেন্সি এমন বার্তা ছড়াচ্ছে যে, শাহিনবাগি আন্দোলনের প্রভাবে বিজেপির ভোটব্যাংকে সুবিধা হচ্ছে।

দিল্লির নির্বাচনে বিজেপির সুবিধা হোক-বা-নাই হোক, তাতে কার কী যায় আসে ! আমরা দেখব, শাহিনবাগের আন্দোলনের দ্বারা কী কী প্রাপ্তি হলো এতদিনে :

১) শাহিনবাগের আন্দোলন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে‌। এ আন্দোলন ‘তাহরির স্কোয়ার’-এর চাইতেও বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছে। এর আওয়াজ ‘ইউরোপীয় সংসদ’ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ওখানে সিএএ-র বিরুদ্ধে বিতর্ক হচ্ছে, ভোটিং হচ্ছে। এটাই শাহিনবাগ আন্দোলনের প্রথম সফলতা।

২) এদেশে মুসলমানদের ওপর ৭০ বছর ধরে চলে-আসা-জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠ হয়ে দাঁড়িয়েছে শাহিনবাগ, যা এদেশের বৃহত্তম প্রতিবাদী আন্দোলন।

৩) এদেশের মুসলমানদের সাথে হিন্দু-শিখ-খ্রিষ্টানরাও এসে দাঁড়িয়েছেন এবং সবাই মিলে সিএএ-র বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। মুসলিমদের পাশে গোটাদেশের উঠে দাঁড়ানোটাও স্বাধীন ভারতের প্রথম ও অভূতপূর্ব ঘটনা।

৪) যে মুসলিম মহিলারা চার দেয়ালে বন্দিনী, মূক-বধির-বোবা, পুরুষদের দ্বারা বোরকা ও পর্দায় অবরুদ্ধ ও নির্যাতিতা, তিন তালাকের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত ইত্যাদি ইত্যাদি—সঙ্ঘি প্রচারের মাধ্যমে পুরো দেশ ও দুনিয়ার সামনে করুণার পাত্রীরূপে চিত্রিত হয়েছিলেন—তাঁরা দেশজোড়া শাহিনবাগের মাধ্যমে সেই মিথ্যার ছবি আজ ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন।

৫) বোরকা পরিহিতা ও ‘নির্যাতিতা’ মহিলারা এখন শাহিনবাগে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁদের সাথে বিতর্ক করার জন্য সবধরনের স্মৃতি ইরানি ও নির্মলা সীতারামনদের প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করছেন। তাই এ আন্দোলন মুসলিম মহিলাদের শক্তিশালী হওয়ার সবচেয়ে বড়ো ও বলিষ্ঠ প্রমাণ।

৬) দেশের মিডিয়া এখন শাহিনবাগ নিয়ে বিভক্ত হতে শুরু করেছে। মিডিয়ার একটা বড় অংশ এখন দালাল মিডিয়া দ্বারা শাহিনবাগের বিরুদ্ধে প্রচারিত মিথ্যাগুলোর বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরতে বাধ্য ও সচেষ্ট হচ্ছে।
এনডিটিভি ও কিছু ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ‘কভার’ হতে-থাকা-শাহিনবাগ এখন বিবিসি, আজতক, এবিপি নিউজ, ইন্ডিয়া টুডে প্রভৃতি চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে।
সুধীর চৌধুরী, দীপক চৌরাশিয়া প্রমুখের চক্রান্ত এখন মিডিয়াই ফাঁস করছে। এসব চ্যানেল এখন অঞ্জনা ওম কাশ্যপ ও রাহুল কঁওয়লদের দিয়ে, বিক্ষোভ প্রদর্শনকারীদের মধ্যে গিয়ে, নিরপেক্ষতার সঙ্গে প্রশ্নোত্তর-পর্ব চালু করেছে, বিক্ষোভকারীরা ফটাফট উত্তরও দিচ্ছেন এবং এমন সব প্রশ্নও তুলছেন যেগুলোর উত্তর সরকারের কাছে নেই। এটাও শাহিনবাগের অন্যতম বড়ো প্রাপ্তি ও সাফল্য।

৭) শাহিনবাগ আন্দোলনের জেরে দেশের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি আগামীতে বিশেষ কোনো নেতিবাচক পদক্ষেপ নেবার আগে দশবার না-হোক অন্তত সাতবার ভাববে, অথবা সাময়িকভাবে হলেও, সেটা থেকে বিরত থাকবে।

৮) শাহিনবাগি আন্দোলন দেশজুড়ে হাজারো নেতৃত্ব তৈরি করে দিয়েছে, সমাজকে যাঁরা পথ দেখাবেন আগামী দিনে এবং জনতার কণ্ঠ হবেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে।

৯) দেশজোড়া শাহিনবাগের মধ্য দিয়ে দেশের জনতা নিজেদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করতে শিখেছে, সংগঠিত হতে শিখেছে, আওয়াজ তুলতে শিখেছে। (এখন জরুরি হলো সমস্ত শাহিনবাগের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় গড়ে তোলা। এজন্য প্রয়োজন সর্বভারতীয় নেতৃত্বের।)

১০) শাহিনবাগের কাছে একসময় সরকার নত হবে। সর্বোচ্চ আদালতও শাহিনবাগের কথা শুনবে। দেশের ন্যায়পরায়ণ মানুষও শুনবে। ১° তাপমাত্রার শীতলতম রাতের অবর্ণনীয় কষ্ট উপেক্ষা করেও মা-বোন-মেয়েদের চালিয়ে যাওয়া এই আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হতে পারে না।

শ্রদ্ধেয় শাহিনবাগিরা, হিম্মত হারাবেন না—আপনারা জিতছেন, আপনাদের মাধ্যমে জিতছে গোটা ভারতবর্ষ।