দীঘা ভ্রমণের কাহিনী ও বাস্তব অভিজ্ঞতা

হোটেল

লিখেছেন নাইমুল ইসলাম
অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি অ্যাসোসিয়েশন (আইমার) চিন্তন শিবিরে প্রোগ্রামে নিউজ করতে যায় আমিও সাকিরুল ইসলাম।
যাত্রা শুরু করলাম বুধবার সকালে।
বাড়ি থেকে বাসে চড়ে পৌছালাম ধর্ম তলায়।
সেখানে বাস স্টান্ডে যেতেই একজন জিজ্ঞাসা করল কোথায় যাবেন?
আমরা বললাম দীঘায় তিনি বলল আমার সাথে আসুন,আমরা কিছুটা হলেও ভীতি সন্ত্রস্ত হলাম দুজনে বলাবলি করলাম দালাল নয় তো?
কিছুদুর গিয়ে লোকটা আবার ডাকলো এদিকে আসো।
সেখানে গেলাম গিয়ে দেখি কাউন্টারে পৌছেদিল সেখান থেকে দুজনের জন্য টিকিট কাটলাম ৬০০ টাকা দিয়ে।
কিন্তু মনে একটা প্রশ্নে থেকে গেল আমাদের কাছে থেকে টাকা বেশি নিলনাতো?
বাসে উঠে দেখলাম অনেকই আছে তখন অনেকটা ভয় শূণ্য হলাম।
বেশ কিছুদূর যাওয়ার পরে অনেক যাত্রী উঠছে আবার নামছে। দীর্ঘ চার ঘণ্টা পর দীঘায় পৌছালাম। গাড়িতে থাকতেই ফোন করেছিলাম আইমার কর্মীদের কাছে তারা পথ নির্দেশ দিয়েছিল বাস থেকে নেমে ৫ মিনিট হাঁটা পথ সমুদ্রের ধারে তাদের রাজ প্লেস নামক হোটেল।
বাস থেকে নামতেই ছুটে এল ভ্যানঅলা দাদা কোথায় যাবেন? আমরা বললাম কোথাও যাবো না এই পাশেই আমাদের হোটেল আছে মোবাইল থেকে জিপিএস অন করে হোটেলের দিকে রওনা দিলাম কিছুদূর যেতেই একটি লোক ছুটে এলো বললো দাদা হোটেল খুঁজছেন এখানে আসেন অল্প দামে ভালো হোটেল পাবেন ।আমরা বললাম আমাদের হোটেল বুক আছে তিনি আবারও বললেন ৩০০ টাকায় হয়ে যাবে দাদা। ফের বললাম আরে ভাই ওদের হোটেল বুক করা আছে রাজ প্লেস পারলে কোন দিকে একটু বলে দিন তিনি বলল ওতো অনেক ভাড়া আমরা বললাম আরে ভাই আমাদের বুকিং করা আছে। তিনি কিছু না বলে চলে গেল।
লোকেশন দেখে দেখে আমরা চললাম হোটেলের উদ্দেশ্যে যেতে যেতে দেখতে পেলাম সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস পাশের লক্ষ্য করতেই দেখলাম রাজ প্লেস হোটেল দাঁড়িয়ে আছে একেবারে সমুদ্রের কাছে।
সেখানে ঢুকতেই আইমার একজন ভাই এসে বললো কোথা থেকে এসেছেন আমরা বললাম নিউজ সাংবাদিক ভাঙড় থেকে এসেছি। তিনি নাম জিজ্ঞাসা করে খাতায় লিপিবদ্ধ করলেন এবং দুটি আই কার্ড দিলেন বললেন খাওয়া-দাওয়া হয়েছে ভাই আমরা বললাম না তিনি রেস্টুডেন্ট দেখিয়ে বললেন ওখান থেকে খেয়ে নিন পরে কথা হবে।
আমরা হাত মুখ ধুয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে নিলাম বেশ কিছুক্ষণ নিচের সোফায় বসে থাকলাম।
তারপর একটি রুমের চাবি দিয়ে বললো তোমরা দুজন ও নাসিরুল বলে একজন ভাই তোমাদের সঙ্গে থাকবে তিনজনেই সিঁড়ি দিয়ে উঠে তিনতলায় পৌছালাম রুম নাম্বার ৩০৬ সেখানে বিশ্রাম করলাম।
বিকালের দিকে নদীর চড়ায় ঘুরতে লাগলাম সমুদ্রের ঢেউ খুবই ভালো লাগছে। সেখান থেকে বেশ কিছুক্ষন ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে রুমে ফিরলাম।
রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে ঘুমাতে লাগলাম বেশ কিছুক্ষণ শোয়ার পর দুই-একটি মশা উডতে লাগলো। রুম পার্টনার নাসিরুল ফোন করতেই অলআউট আর রুম স্প্রে নিয়ে দিয়ে গেল রাত তখন বারোটা।
একটু ঘুম আসতেই কলিং বেলের শব্দ শোনা গেল দরজা খুলতেই বলল ভাইজান কনফারেন্স রুমে মিটিং হচ্ছে আপনাদের যেতে বলেছে। তাড়াতাড়ি করে সেখানে যেতেই দেখলাম হিন্দিতে বক্তব্য চলছে কিছুই বুঝতে পারছি না আমি কি করবো বসে থাকতে হল ১ টা ৩০ পর্যন্ত মিটিং চললো তারপর সকলেই বার হওয়ার সময় একটি করে গেঞ্জি দিল এবং বললো এটি পড়ে কালকে এখানে আসতে হবে।
রুমে এসে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম এসি চালিয়ে।
ভোর পাঁচটার সময় উঠে পড়লাম খুব ঠান্ডা লাগছে সেজন্য এসি বন্ধ করলাম বাইরে বের হয়ে দেখলাম সূর্য তখনও ওঠেনি আবার শুয়ে পড়লাম। চারটের সময় আবারো উঠে পড়লাম সাকিরুল কে ডাকলাম চলো সূর্য উঠা দেখবো।
ও বলল চারটার আগে গেট খুলবে না আমি বললাম সময় হয়ে গেছে চলো না দুজনে উঠে সমুদ্রের উদ্দেশ্যে বার হলাম। সমুদ্রে গিয়ে দেখলাম তখন অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে আছে সূর্য দেখার অপেক্ষায়। সেই সঙ্গে আমরাও দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ পর দেখি নীল আকাশ থেকে উঁকি মেরে সূর্য উঠছে পুরোপুরি দেখা না গেলেও বেশ কিছুটা দেখা যাচ্ছে। পুরো দিঘার চর একেবারে রঙিন হয়ে গিয়েছে দেখতে খুব দারুণ লাগছে দুই একটা ছবিও তুললাম।
সাকিরুল ঢেউ দেখে মোবাইলে লাইভ করতে লাগলো আমিও দু একটা ছবি তুললাম।
ও ঢেউ দেখতে দেখতে বেশ কিছুটা ভিজেগেছে। আমি উপরে ছিলাম বসে বসে শুধুই ছবি তুলছিলাম।
সাকিরুলের মুখে দিঘার পানি ঢুকতেই উঠে এসে বললো চলো রুমে যাবো আমি বললাম কেন আর থাকবে না ও বললোনা পানিকী নোনতা।
কথামতো রুমের দিকে রওনা দিলাম রুমের সামনে এসে দেখি রুমে তালা বন্ধ আমাদের নাসিরুল রুমপার্টনারের কাছে চাবি ফোন করতে বলল চা খেতে এসেছি এক্ষুনি যাচ্ছি বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম।তারপর পৌঁছলো রুমে পৌঁছে ও গোসল করলো আমি ততক্ষণ টিভিতে খবর দেখতে লাগলাম তখনই দেখতে পেলাম ফনি ঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে।
৬ টার দিকে ভাইজান প্রোগ্রাম শুরু করে দিয়েছে। তড়িঘড়ি নিয়ে ভাইজান এর কাছে গেলাম ভাইজান বললো আমি তোমাদের নটার দিকে সময় দেব এখন সিগারেট ব্যাপার তোমরা পাবলিশ করতে পারবে না কিছু। তোমরা বরণ রুমে গিয়ে বিশ্রাম নাও নটার দিকে ডেকে নেব।
কথামতো রুমে গিয়ে খবর দেখতে লাগলাম দেখতে দেখতে নটার সময় হয়ে গেল। ভাইজান এর ইন্টারভিউ নিলো সাকিরুল।
তারপর দুপুরে খুব ধুমধাম খাওয়া-দাওয়া হলো ভাইজান কে বলে বাড়ির পথে রওনা দিলাম ভাইজান পথ খরচ কিছু দিল।
ওদিকে শুনলাম ট্রেন বাতিল করা হয়েছে কি করি এখন বাধ্য হয়ে লোকাল বাসে করে বাড়ির পথে রওনা দিলাম ৫ ঘন্টা ৩০ মিনিট বাসে আসতে সময় লাগে।
ধর্মতলা নেমে বাড়ি ফিরতে হবে তখন সময় আটটা কুড়ি হবে।
সাকিরুল বলছে বাসছ যাব আমি বলছি মেট্রোয় যাব দুজনা বেশ কিছুক্ষণ কথোপকথন যুক্তিযুক্ত কথা হল অবশেষে আমার কথাই রইলো মেট্রো করে শ্যামবাজারে নামলাম সেখান থেকে সাপুরজি বাস ধরে সাপুজি নামলাম অনেকক্ষণ ধরে সাপুজি বসে থাকলাম কোন গাড়ি আসছে না।
অবশেষে ইঞ্জিনভ্যান করে হাতিশালায় পৌছালাম, আমার সঙ্গে ছিল স্টান বাস আসতেই স্টান ইঞ্জিন ভ্যানে ফেলে বাসে উঠেপড়লাম।
গাবতলায় এসে মনে পড়ল স্টানের কথা সেখানে নেমে পড়লাম সেখান থেকে হাতিশালায় পৌছালাম সেখানে দেখলাম ইঞ্জিনভ্যান নেই মাথা খারাপ।
সাকিরুল কে ফোন করি তারপর সেখান থেকে আমি বাইকে করে আবারো গাবতলায় সেখান থেকে আরেকজনের বাইক উটি পিঠে ব্যাগ ছিল বাইক ড্রাইভার বলল বোম মেশিন নেই তো আমি বললাম কেন নানা নেই। বাইক ড্রাইভার বলল তোমার শুনতে খারাপ লাগলেও এখন তো এসব হয়েছে তাইতো আমি বললাম তা ঠিক। গল্প করতে করতে জিরানগাছায় নামলাম সেখানে থেকে কিছুটা হেঁটে আরো একজনের বাইকে করে কৃষ্ণমাটি ব্রিজ সেখান থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরলাম।
★স্টান ফেলে আসার মূল উদ্দেশ্য দুজনাই মোবাইলে ব্যস্ত ছিলাম সেই জন্য।
অবশেষে সাকিরুল বাইক নিয়ে হাতিশালা গাবতলা সিক্স লইন ঘুরে কোথাও ইঞ্জিনভ্যান এর দেখা নেই তরমুজের গোলা থেকে সেই ভ্যান ড্রাইভারের নাম্বার জোগাড় করল ভ্যানআলা বলল পরেরদিন ১০০ টাকা নিয়ে দেখা করতে।