সবুজ দ্বীপের ভ্রমণের কাহিনী,

নাইমুল ইসলাম,পিএম নিউজ:-আমরা তখন ক্লাস ১২ পড়ি তখন খুব ইচ্ছা হতো যে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যাবো।

অনেক বার সময় ও ঠিক করা হয় কিন্তু কোনবারই সফল হইনি।

তারপর১২ ক্লাসের পরীক্ষা হয় বেশ কিছুদিন ছুটি অনেকেই এক জায়গায় হয়ে ভাবলাম কোথায় যাওয়া যাক কেউবা বলে দার্জিলিং কেউবা বলে মুর্শিদাবাদ আবার কেউ বলে দীঘা, শেষবেস মুর্শিদাবাদ ঠিক হয়।
কয়েকদিন যাওয়ার পরে দু একজন ফোন করে বলে ‘এ ভাই আমার খুব কাজ তোরা যা’ ওখানেই মন ভেঙে যায়।
কিছুকাল পরে আবারো বেড়ানোর শখ জাগলো।
তখন আমরা পড়ি কামিল পাঠ-১
তখন পূজোর ছুটি চলছে সন্ধ্যাবেলা একদিন ৪ বন্ধু এক জায়গায় হয়ে আড্ডা দিচ্ছিলাম ছোট্টু দের দোকানে।
তখন মিনহাজ বলল চল পুজোর ছুটিতে ইকোপার্ক থেকে ঘুরে আসি সেইমতো যাওয়ার দিন ঠিক করতে লাগলাম কিন্তু সেই সময় হঠাৎ জালাল চলে এলো ও বলল কি ব্যাপার তোরা বেড়াতে যাবি না?
তখন নাইমুল বলল ওদের কথা বাদ দে ওরা যাবে না চল আমরা সবাই ইকোপার্ক থেকে ঘুরে আসি তখন ও বলল আরে না চল বড় কোথায় যায় তখন নাইমুল বললো চল ★সবুজ দ্বীপ থেকে ঘুরে আসি’।
মিনাজ বলল ঠিক আছে তাই হোক।
তারপর সবাই বললো ঠিক আছে ডেট ঠিক কর।ডেট তিন দিনের মধ্যে ঠিক করল তখন সবাইকে ফোন করলাম যাবে বললো 9 জন।
এদিকে সবুজ দ্বীপ যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মিজানুর হাফেজ ভাই মিজানুর ভারতো খুব যাওয়ার ইচ্ছা সবুজ দ্বীপে কিন্তু ফোন করতে তিনি বলল নাইমুল তোমরা তারিখ ঠিক করে ফেললে ঐদিন আমার একটা কলমা খানির দাওয়াত আছে আমার হবে না মনে হচ্ছে।

তারপর ফোন করলাম মনি ভাই মনি ভাই শুনে তো রেগে আগুন নাইমুল তুমি একটা বার তো আমাকে বলে ও দিন আমার একটা খতম এর দাওয়াত আছে আমি যেতে পারব না।
মনি ভাইকে অনেক বলার পর মনি ভাই রাজি হল।

তারপর ফোন করলাম রাধুনী সাদ্দাম হোসেনকে শুনেতো এক পায়ে খাড়া।
মজনু ভাই যাবে বললো,আফ্রিদি দেখছি বললো কিন্তু সে আসলো না, শাহরুখ যাবে বললো, মিনহাজ যাবে, আর জালাল বললো জিনিসপত্র সব আমার শশুর বাড়ি থেকে নিয়ে যাব কোন টেনশন করিস না।

  1. সবুজ দ্বীপ যাওয়ার আগের দিন রাত্রে সাদ্দামের সঙ্গে দেখা করে বিরানির মসলা নিয়ে নেই।
    সবুজ দ্বীপ যাওয়ার দিন সকালে সভায় উপস্থিত কিন্তু শাহরুখের কোন খোঁজ নেই ফোনের ওপরে ফোন করে যাচ্ছি তাও শাহরুখ ফোন তুলছে না তার পরে মনি ভাইকে পাঠিয়ে দিলাম শাহরুখের বাড়ি তখনও দেখি ঘুমাচ্ছে ওকে ডেকে ঘুম থেকে তোলা হলো।
    আবার আফ্রিদি ও ফোন তুলছে না আব্দুর রহিম সেও ফোন তুলছে না।
    বাধ্য হয়ে নিচের ক্লাসের একজনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম তখন আমাদের গাড়িতে লোক সংখ্যা-৮জন।
    পাকাপোল থেকে কাটা পলটি কিনে নিলাম তখন ঘড়িতে বাজে দশটা।
    তারপর গাবতলা হয়ে সিক্সলাইন দিয়ে বেরিয়ে গেলাম সবুজ দ্বীপের উদ্দেশ্যে।
    অনেকদূর যাচ্ছি তো গিয়েই চলেছি তারপর দেখলাম গাড়িওয়ালা তার মোবাইল বার করে ম্যাপ সেটিং করছে।
    হুগলি পার হয়ে একটা মাঠের মাজায় পিকনিক স্পট নাম সবুজ দ্বীপ সেখানে গিয়ে ড্রাইভার বললো এইতো সবুজদীপ জায়গাটি দেখে সবার মাথা গরম।
    তখন সবাই বলে আরে চল না দেখে আসি গিয়ে দেখলাম কয়েকটি গাছে চুন মাখানো আছে আর কিছুই নেই।
    সেখানে কিছুক্ষণ বসে মোবাইল ঘাটতে লাগলাম আর সবুজ দ্বীপ কোথায় আছে নেটে দেখলাম আরো একটি সবুজ দ্বীপ আছে। একজন স্থানীয় লোকের কাছে থেকে জেনে নেই যে ভাই সবুজদীপ টা কোন দিকে তিনি বলল এখান থেকে আধ ঘন্টা পথ যেতে হবে মেন রাস্তা ধরে তারপর সবুজদীপ পাবে।
    সবাই বলেলো চল ওখানেই যায়। ড্রাইভার ভাই আবারো লোকেশন সেট করলো বেশ আধাঘন্টা গাড়ির বিতর কাটালাম পিছনে আছে কাটা পলটি।
    রাস্তায় দেখলাম অনেক পুজোর মণ্ডপ খুব সুন্দর সাজানো গোছানো রাস্তা।
    লোকাল রাস্তা ধরতেই দেয়ালে লেখা দেখলাম সিঙ্গুরে পৌঁছে গেছি সেখান থেকে আরো অনেক দূর জায়গাটার নাম সঠিক মনে নেই তবে সেখান থেকে কিছু দূর গেলে কোন একটা নদীর পড়বে কিন্তু সেই সময় হচ্ছে পুজো রাস্তা প্রচন্ড ভীড় তখন ঘড়ির কাটায় ১২টা৩০খিদেয় সবার পেট চোঁ চোঁ করছে কিছু করার নেই।
    ওদিকে বন্ধুরা তো শুধু শুধু ফোন করছে ঐ ছবি দেরে কি বলবো ভেবে পাচ্ছিনা তখন বললাম এখন খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন চলছে পরে দিচ্ছি ফের পরে ফোন করলো বাধ্য হয়ে একটা ফাঁকা মাঠে দু চারজন দাঁড়িয়ে ছবি তুলে দিলাম আর বললাম এখানে ছবি তুলতে দিচ্ছে না।স্থানীয় একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম দাদা সবুজ দীপটা কতদূর সে বলল আর কিছু দূরে কিন্তু যতই যায় তো গিয়েই চলেছি অবশেষে দেখলাম একটি ঘরের নাম সবুজ দ্বীপ সবার মাথায় আগুন লেগে গেল। কেউবা বলে চল বাড়ি কেউ বলে না সবুজ দীপ যাবো সেখানে কি আছে দেখবো।বেশ কিছুক্ষণ সেখানে থাকার পর সবাই সিদ্ধান্ত করলো চল ইকোপার্কে রাস্তায় এত জ্যাম আসতে আসতে অনেক টাইম লেগে যায় অবশেষে বাইপাস রাস্তার ধারে গাড়ি রেখে দিয়ে রান্না শুরু করে দেব সেখান থেকে নেমে আলু ছেলা শুরু চাল ভিজিয়ে দেয় কিন্তু কিছুক্ষণ যেতে না যেতে ড্রাইভার এর সঙ্গে স্থানীয় একজনের কিছু কথোপকথন হয় স্থানীয় ছেলেটি বলে আমাকে গালাগালি করলে কেন ড্রাইভার বলে আমি গাল দিই নি কে শুনে কার কথা ওরা দুজনকে ডেকে এনে গালাগালি করছে আর বলছে এখানে দাঁড়া আমরা লোক ডাকছি তোদের মজা দেখাবো।
    সবার মাথায় খুব টেনশন কি করবে ভেবে পায় না তখনও বালতিতে চাল ভেজানো আছ সেই শুদ্ধু গাড়িতে বসে নাইমুল চালে বালতি ধরে আছে।গাড়ি বেরেক কসলেই পানি অমনি সামনের দিকে চলে যায় কিছু করার নেই মুখবুজে সবাই মেনে নিচ্ছে। ঘড়িতে তখন দুটো বাজে পৌছালাম নবাবপুরে সেখানে ফাকা মাঠে রান্না করার কথা ভাবলাম তখনো মনের ভিতর ভয় ভয় করছে বিল্ডিং এর লোক কিছু বলবে না তো পাশে বিল্ডিং এর কাজ চলছে। আল্লাহর নাম নিয়ে নেবে পড়লাম গাড়ি থেকে সব আলু চাল বিছন নামালাম সেই সঙ্গে গ্যাস ও চুল নামালাম চুল দেখে তো সাদ্দামের মাথা খারাপ, বলল এই চুল বিরানি হতে তো সন্ধ্যে হয়ে যাবে! কি আর করা যাবে পাশে একটা ইট দিয়ে রান্না শুরু করে দিল এদিকে মজনু ভাই গোষ খাদি খাদি করতে লাগলো।
    সাদ্দাম আলু ছিলতে লাগলো,মনিভাই আদা,রসুন আর সবাই যে যার কাজে বেস্তো নাইমুল পানি আনতে গেল।
    তারপরে সবাই গাড়িতে বসে আছে কেউ বা ঘুরতে লাগলো সময় পার হচ্ছে না অবশেষে সবাই গাড়ির কাছে এক জায়গায় হয়ে গল্প করতে লাগলো।
    কিছুক্ষন পরে সাদ্দাম ডাকতে লাগল এই চলেআয় খাবী।
    সবাই গোলহয়ে খাওয়া দাওয়া শেষকরে একটু স্বস্তি বোধ করলাম।
    তখন ঘড়ির কাটায় চারটে বাজে সেখান থেকে চলে এলাম ইকোপার্ক মজনু ভার জীবনের প্রথম ইকোপার্কে আসা খুব ভয় করছে গ্রামের ইমাম কেউ দেখলে মান-সম্মানে পড়েযাবে তার পরেও খুব খুশি। ভালোভাবে ঘোরাফেরা করে তখন সন্ধ্যা সাতটা ইকোপার্কের প্রথম গেট দিয়ে বার হলাম হঠাৎ জালাল একটা স্পাইট কিনে আনলো।দেয়ালে বসে সবাই প্রাণ ভরে খেলাম তারপর গাড়িতে উঠে আনন্দ করতে করতে ফিরে এলাম খুব মজা করলাম বন্ধুদের সঙ্গে।হাঁড়ি,কড়া,চামস সব জালালের শশুর বাড়ি নামিয়ে গুটি গুটি পায়ে বাড়ি এলাম।
    এই ভ্রমণ থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে কোন জায়গায় চেনাশোনা লোক নিয়ে যাওয়া জরুরী সেই সঙ্গে বাইরে গিয়ে কারো সাথে তর্ক তুর্কী করতে নেই।
    মজনু ভাই একটি পরামর্শ দেয় ছোট জায়গা থেকে ভালো অভিজ্ঞতা পেলাম নাইমুল তুমি বাচ্ছা মানুষ আর এইসব রিক্সনিওনা বুজলে।
    পরে যখন বন্ধুদের সঙ্গে এই কাহিনী বলতে লাগলাম সবাই খুব হাসাহাসি করছে।