নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ইথিওপিয়ার মুসলিম প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ

নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ইথিওপিয়ার মুসলিম প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ

পি.এম.নিউজ ৩৬৫;ডিজিটাল ডেস্ক:আজ চাষ আকাল সে দেশ নায়ক, বরাতের কী খেল- ইতিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এমনটা বলাই যায়৷নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ৷

ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শান্তি স্থাপনের অবিরাম প্রচেষ্টার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ৷চিকিৎসাবিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা এবং সাহিত্যের পর এবার ঘোষণা করা হল নোবেল শান্তি পুরস্কার।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার মধ্যে বজায় ছিল দীর্ঘদিনের শত্রুতার সম্পর্ক। বছরের পর বছর ধরে চলা এই সম্পর্ককে ২০১৮ সালে পুনরুদ্ধার করেন আবি আহমেদ। ১৮৯৫ সালে এই পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুর বার্ষিকীর দিন অর্থাৎ ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের ওসলোতে নয় মিলিয়ন সুইডিশ ডলার মূল্যের এই পুরস্কার দেওয়া হবে।

শুক্রবার নরওয়ের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ভারতীয় সময়;দুপুর আড়াইটা ) রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এবারের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন।গত বছর ইরিত্রিয়ার সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয় ইথিওপিয়া। ক্ষমতায় আসার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তিনি এই অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন।এতে ১‌৯৯৮-২০০০ সালের সীমান্ত যুদ্ধের পর গত ২০ বছরের অচলাবস্থার নিরসন হয়েছে। ওই যুদ্ধে ৭০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছেন।

২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ইথিওপিয়ায় ব্যাপক উদারীকরণ সংস্কার করেন আবি আহমেদ। দেশটির কঠোর সমাজ ব্যবস্থায় তিনি বড় ধরনের একটা নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছেন।কারাগার থেকে কয়েক হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকে তিনি মুক্ত করে দেন। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে-তিনি প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দুই দশকের যুদ্ধের ইতি ঘটিয়ে একটি শান্তি চুক্তি সই করেন।পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার চেষ্টায় গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস- আইসিএএন।

৪৩ বছর বয়সী( এই আফ্রিকান নেতা নিজ সমাজ ব্যবস্থাকে একটা বড় পরিবর্তনের দিকে নিয়ে গেছেন। সেই গতিকে তিনি সীমান্ত ছাড়িয়ে বহুদূর এগিয়েছেন।তিনি বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের কেবল কারাগার থেকে মুক্ত করে দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তাদের ওপর চালানো রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও নৃশংসতার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

এছাড়া তার পূর্বসূরি যাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে দেশ ছাড়া করেছিল, সেই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের তিনি দেশে স্বাগত জানিয়েছেন।তবে অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আবি আহমেদ প্রতিকূলতাও রয়েছে। বিশেষ করে তরুণরা তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে বিক্ষোভও করছেন।কিন্তু এসব সত্ত্বেও মিত্রদের প্রত্যাশা, তার ব্যক্তিগত উচ্চাভিলাষ তার উত্থানকে দীর্ঘায়িত করবে।

ভারতের ২৯তম স্পবাধীনতা দিবসের দিন(১৫ আগস্ট, ১৯৭৬)মাঞ্চলীয় শহর বেশাসায় এক মুসলমান বাবা ও খ্রিষ্টান মায়ের ঘরে জন্ম নিয়েছেন আবি। বিদ্যুৎ ও জলেরর স্বল্পতা ছিল তাদের বাড়িতে। এমনকি তাকে মেঝেতে ঘুমিয়ে বড় হতে হয়েছে।সেপ্টেম্বরমাসে একটি রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নদী থেকে আমাদের জল তুলে নিয়ে আসতে হতো। সপ্তম গ্রেডে পড়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যুৎ কিংবা অ্যাসফল্ট আস্তীর্ণ রাস্তা দেখেননি তিনি।