মার্কিন সেনার ওপর হামলার ক্ষেত্রে ইরানকে ‘ভারী মূল্য’ চোকাতে হবে বলে সতর্ক করেলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক,
নিজস্ব প্রতিবেদন,
পি এম নিউজ ৩৬৫, ২ এপ্রিল, ২০২০, বৃহস্পতিবার

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিতর্কিত দেশ ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘর্ষ সর্বজনবিদিত। তবুও চিন্তাশীল জগতের অনেকেই মার্কিন-ইরান গোপন আঁতাতবদ্ধতার ব্যাপারে সতর্কবার্তাও দেন। যদিও সে নিয়ে মিডিয়ার তেমন নজর নেই।

যাইহোক বরাবরের মতো, বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকে যুক্ত মার্কিন সংস্থাগুলিতে মার্কিন সেনার ওপর হামলা বা সম্পদ আক্রমণ করার বিরুদ্ধে ইরানকে সতর্ক করে দেন। ট্রাম্প তার টুইটটিতে কী তথ্য উল্লেখ করছেন তা যদিও পরিপূর্ণভাবে পরিষ্কার বোঝা যায়নি।

এদিকে ইরানের একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের এক শীর্ষ সামরিক সহযোগী এর আগে ইরাকে “উস্কানিমূলক ব্যবস্থা” এর পরিণতি সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিলেন।

আধা-সরকারী সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি বলেছেন, “আমরা মার্কিন রাজনীতিবিদ এবং সেনাবাহিনীকে তাদের উস্কানিমূলক কর্মের পরিণতি (ইরাক) এর জন্য দায় নিতে পরামর্শ দিচ্ছি।” “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও পদক্ষেপ বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রপতির রেকর্ডে আরও বড় কৌশলগত ব্যর্থতা চিহ্নিত করবে।” ট্রাম্পের টুইটের কয়েক ঘন্টা আগে রহিম সাফাভি এই মন্তব্য করেছেন।

ট্রাম্প ইরানের ২০১৫ সালের বহুপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তি এবং তেহরানের উপর মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলি ফিরিয়ে দেওয়ার পর থেকে প্রায় কয়েক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে দেখা গেছে।

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রপতি বলেন, করোনাভাইরাস আবির্ভাবের সাথে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলি উঠিয়ে নেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগটি হাতছাড়া করেছে।

মঙ্গলবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেট মাইক পম্পেও উত্থাপন করেন, ওয়াশিংটন ইরানের এবং অন্যান্য দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা হয়ত সাময়িক তুলে নিতে পারে যাতে মহামারী যুদ্ধের জন্য একে অপরে সাহায্য করতে পারে, তবে এটির জন্য কোন কংক্রিট সাইন করতে পারে না।

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যায়ভাবে চাপানো নিষেধাজ্ঞাগুলি তুলে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হারিয়েছে,” প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি একটি টেলিভিশনে মন্ত্রিসভা বৈঠকে বলেন। “এটা আমেরিকানদের ক্ষমা করার জন্য একটি মহান সুযোগ ছিল।

ককরোনাভাইরাস ইরানের ৪৮,০০০ জনের সংক্রমণের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার জনেরও বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। এটি মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও আক্রান্ত দেশে পরিণত করেছে। এজন্য দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান চীন ও জাতিসংঘকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করতেও বলেছে।

“আমেরিকানরা এই সুযোগটি ব্যবহার করতে পারে এবং ইরানি জাতি কখনোক আমেরিকানদের বিরুদ্ধে নয় “রুহানি বলেন।” কিন্তু তবুও তাদের শত্রুতা (ইরানিদের প্রতি) সুস্পষ্ট। ”

ওয়াশিংটন অবশ্য তার দীর্ঘমেয়াদী শত্রুকে মানবিক সহায়তা প্রদান করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইরানের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এদিন প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন,”করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামের নিয়ে ইরান স্ব-পর্যাপ্ত। এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যান্য দেশের চেয়ে ইরান অনেক বেশি সফল হয়েছে।”

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইউকে, ফ্রান্স, কাতার ও তুরস্ক সহ বিভিন্ন দেশ, গ্লাভস এবং মাস্ক সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ইরানকে সরবরাহ করেছে।

সমস্ত আপডেট গুলো এখানে রয়েছে।