কাশ্মিরকে কয়েদখানা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে : অধীর চৌধুরী

কাশ্মিরকে কয়েদখানা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে : অধীর চৌধুরী

পি এম নিউজ, ডিজিটাল ডেস্ক : লোকসভায় কংগ্রেসের সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেছেন, কাশ্মিরকে কয়েদখানা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে লোকসভায় জম্মু-কাশ্মির পুনর্গঠন বিল পেশ করার পরে এনিয়ে তীব্র বিতর্কের সময় অধীর চৌধুরী ওই মন্তব্য করেন।

অধীর চৌধুরী বলেন, ‘নিয়ম ভেঙে জম্মু-কাশ্মির ভাগ করা হচ্ছে। শিমলা চুক্তি ও লাহোর চুক্তি সত্ত্বেও কীভাবে এটা অভ্যন্তরীণ বিষয় হল? ওই দুই চুক্তি দ্বিপক্ষীয় ছিল। জম্মু-কাশ্মীরকে কয়েদখানা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

অধীর বাবু বলেন, ‘কাশ্মিরকে আপনারা অভ্যন্তরীণ বিষয় বলছেন কিন্তু রাষ্ট্রসঙ্ঘ সেখানে পর্যবেক্ষণ করে। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, কংগ্রেস কী এটাই চায় যে রাষ্ট্রসঙ্ঘ পর্যবেক্ষণ করতে পারে? এনিয়ে কংগ্রেস তার অবস্থান স্পষ্ট করুক। এরপরেই ওই ইস্যুতে সংসদে তীব্র গোলযোগ সৃষ্টি হয়।

অধীর চৌধুরী বলেন, এটা দ্বিপক্ষীয় বিষয় না আন্তর্জাতিক বিষয় সরকার তার অবস্থান স্পষ্ট করুক। সেখানে লাখো সংখ্যায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। উপত্যকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা জানতে পারছি না।

এর পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘কোন নিয়ম ভাঙা হয়েছে? সংবিধানে জম্মু-কাশ্মিরকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মিরের সংবিধানেও একই কথার উল্লেখ আছে। সেজন্য জম্মু-কাশ্মিরে আইন প্রণয়নে কোনো বাধা নেই। জম্মু-কাশ্মিরের মধ্যে পাক অধিকৃত কাশ্মিরও রয়েছে। আকসাই চিনও ভারতের অংশ। প্রেসিডেন্টের ৩৭০ ধারা বাতিল করার ক্ষমতা রয়েছে।’ সংবিধান অনুসারেই জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও অমিত শাহ মন্তব্য করেন।

কংগ্রেস নেতা মনিশ তিওয়ারি বলেন, ‘ভারতীয় সংবিধানে কেবল ৩৭০ ধারা নেই। এতে ৩৭১-এ থেকে আই পর্যন্ত রয়েছে। তারা নাগাল্যান্ড, অসম, মণিপুর, অন্ধ্র প্রদেশ, সিকিম প্রভৃতি রাজ্যে ‘বিশেষ অধিকার’ প্রদান করে। আজ যখন আপনি ৩৭০ ধারা বাতিল করছেন, আপনি ওইসব রাজ্যের জন্য কী বার্তা পাঠাচ্ছেন?’

সংসদে আজ তৃণমূল সাংসদরা প্রস্তাবিত জম্মু-কাশ্মির পুনর্গঠন বিল নিয়ে ভোটাভুটির আগেই ওয়াকআউট করেন। লোকসভায় তৃণমূল এমপি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জমু-কাশ্মির বিভাজনের পরে সেখানে সন্ত্রাসী কাজকর্ম বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতি অনিশ্চয়তা নিয়ে আসবে। সরকারের বলা উচিত যদি এমন পরিস্থিতি হয় তাহলে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে?

সুদীপ বাবু বলেন, ‘কাশ্মিরের সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রীকে কেন গ্রেপ্তার করা হল, কেন আমাদের এ বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে না? আমরা যদি এই বিলে ভোট দেয়ার অংশ হয়ে যাই তবে আমরাও এর অংশীদার হব এবং এজন্য আমরা এর বিরোধিতায় ওয়াক আউটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’