দু-পাত্র পানীয় জলের সন্ধানে ১০ বছরের ছেলে ছোটে ১৪ কিমি

পিএম নিউজ ডেস্কঃ কখনো কখনো বেঁচে থাকার জন্য শুধুমাত্রই সংগ্রাম নয়, সংগ্রামের পাশাপাশি এমন কিছু দায়িত্ব নিতে হয় যা একেবারেই ভিন্ন। ছোট্ট সিদ্ধার্থ ধাগ, বয়স মাত্র দশ দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। কিন্তু তার কাঁধে খুবই বড় দায়িত্ব আসলে।

জলের অপর নাম জীবন- সেই পানীয় জলের সন্ধানে প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হয় সিদ্ধার্থের। ক্লাস টু-এর এই ছাত্রকে প্রতিদিন প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে, অওরঙ্গাবাদ-হায়দরাবাদ প্যাসেঞ্জার ট্রেনে করে যেতে হয় মাত্র দুই ক্যান পানীয় জল ভরে আনার জন্য। পড়াশুনার পাশাপাশি রোজকার কাজ হিসাবে সিদ্ধার্থ দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে হেঁটে যায় মুকুন্দওয়াড়ি রেলস্টেশনে যায়। সেখান থেকে পৌছে যায় অওরঙ্গাবাদের স্টেশনে। স্টেশনের ট্যাপ থেকে জল সংগ্রহ করে। জল নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে। তবে কখনও কখনও ট্রেন তিন ঘণ্টা লেট থাকে। এই গোটা সময়টা একটা গাছের নীচে অপেক্ষা করে সিদ্ধার্থ ও তার সঙ্গীরা। তবে স্টেশনে আসার পর এতটাই কময় সময় সেটি দাঁড়ায় যে জলের বালতি তুলতে গিয়ে নিত্যদিনই বাচ্চারা আহত হয়।

তবে এই জলের সন্ধানে সংগ্রাম করতে হয় সিদ্ধার্থকে একা নয়, তার এলাকায় একাধিক মানুষের এটাই রোজকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যেমন, ১২ বছরের আয়েসা গারুদ ও তার ৯ বছরের ছোট বোন সাক্ষীও এই কাজই করে। তারা সকলেই মারাঠওয়াড়ার বিস্তীর্ণ খরা কবলিত এলাকা। প্রায় ৭ হাজার গ্রাম এই এলাকায় অবস্থিত। এই গ্রামের প্রতিটি পরিবার রোজ এই পথে অন্তত এক বালতি জল আনতে যান।