মঞ্চে পা নাচাতে দেখা যায় সাংসদ অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে, অভ্যাস নাকি ঔদ্ধত্য?

মঞ্চে পা নাচাতে দেখা যায় সাংসদ অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে, অভ্যাস নাকি ঔদ্ধত্য?

সাদ্দাম হোসেন মিদ্দে, পিএম নিউজ:

নির্বাচনী প্রচার মঞ্চে একাধিকবার পা নাচাতে দেখা গেছে মিমি চক্রবর্তীকে। অভিনেত্রীর পাশে কখনও বসে প্রবীণ ব্যক্তিত্ব তথা ভাঙড়ের বিধায়ক মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা, কখনও বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কখনও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী, কখনো বা মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পদে বড় অথবা বয়সে বড় কাউকেই তোয়াক্কা না করে অনবরত নেচেই চলে মিমির পা। হয়ত বা এটাকে কেউ সেভাবে খেয়াল করে না। কিন্তু শুষ্ক ভাবে খেয়াল করলে অহরহ এই ঘটনা চোখে পড়ার কথা। তবে, কেন এমন টা করেন যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী তা ঠিক বোধগম্য নয় সাধারণের কাছে।

নির্বাচনে জয়লাভ এবং শপথ গ্রহণের পর মঙ্গলবার প্রথম ভাঙড়ে পা রাখেন তৃণমূল সাংসদ অভিনেত্রী মিমি। ভাঙড় ২ নম্বর ব্লকের ভোগালী ২ নম্বর অঞ্চল এবং ব্যাওতা
২ নম্বর অঞ্চলে দুটি সভায় বক্তব্য রাখেন মিমি চক্রবর্তী। ‘একুশে জুলাই’ এর প্রস্তুতির পাশাপাশি যাদবপুর থেকে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করার জন্য মিমি চক্রবর্তীকে সংবর্ধনা জানায় ভাঙড় ২ ব্লক তৃণমূল। এদিন উপস্থিত ছিলেন ভাঙড়ের তাজা নেতা আরাবুল ইসলাম সহ অহিদুল- নান্নু -রোহিমরা। ভাঙড়ের কাঠালিয়াতে এদিন আরাবুল ইসলাম বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে ভাঙড় বিধানসভা এক লক্ষ এগার হাজার ভোটের ব্যবধানে মিমি চক্রবর্তীকে জিতিয়েছে। যে কারণে মিমি চক্রবর্তী বিপুল ভোটে যাদবপুর থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। আরাবুলের এদিন কার্যত ‘আবদার’ করেন মিমি চক্রবর্তীর কাছে, ভাঙড় আপনাকে অনেক দিয়েছে, তাই ভাঙড়ের উন্নয়নের জন্য একটু বেশি বরাদ্দ করুন।

অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী এবারই প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। কিছুদিন আগে বসিরহাটের সাংসদ তথা বান্ধবী অভিনেত্রী নুসরাত জাহানের সঙ্গে পার্লামেন্ট হাউস চত্বরে সেলফি তুলে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার আবেগ -উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারেননি রুপোলি পর্দার দুই নায়িকা। পোজ দেওয়া সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেছিলেন মিমি এবং নুসরাত। তানিয়ে কম সমালোচনাও হয়নি। অনেকে বলেছিলেন, সংসদ ‘জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।’ সেখানে জনগণের সুখ দুঃখের কথাই তুলে ধরা কাম্য। সেলফি তোলা বা ফেসবুকে পোস্ট করা সাংসদদের কাজ নয়। তারপর সাংসদ হিসেবে শপথ নেন মিমি ও নুসরাত। এক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় শপথ নিয়ে অবশ্য অনেকের প্রশংসা লাভ করেন দুজনে। শপথের পর তুরস্কে আসর বসে মিমির বান্ধবী নুসরাতের বিয়ের। প্রিয় বান্ধবীর বিয়েতে অংশ নিতে তুরস্কে উড়ে যান যাদবপুরের সাংসদ। এখান থেকে সটান সংসদের বাদল অধিবেশনে যোগদান মিমি- নুসরাত। সংসদে প্রথম বক্তব্যে যথেষ্ট সাবলীল মনে হয় মিমি -নুসরাতকে। যাদবপুরের রেলওয়ে ওভার ব্রিজ সহ বিভিন্ন সমস্যা ধ্বনিত হয় মিমির কন্ঠে।

সংসদ থেকে এলাকায় ফিরে মঙ্গলবার ভাঙড়ে আসেন মিমি। আর এখানেই ফের বিতর্কে নাম জড়ায় তার। মঙ্গলবার ভাঙড়ের কাঠালিয়াতে আরাবুল ইসলাম যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন পাশে বসে মিমি। সে সময় আগের মত পায়ের উপর পা দিয়ে নাচাতে দেখা যায় মিমিকে। মঞ্চে এটা ঠিক মানানসই নয় বলে অনেকের অভিমত।অনেকের মতে এটা দৃষ্টিকটু।তবে, এটা মিমি চক্রবর্তীর ঔদ্ধত্য নাকি অভ্যাস সেটা হয়তো অভিনেত্রী নিজে বলতে পারবেন। কিন্তু এটাকে ঠিক ভালোভাবে নিচ্ছে না নেটিজনরা।

মিমির আচার-আচরণ এবং পোশাক পরিচ্ছদ নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। সাংসদ পদপ্রার্থী হিসেবে যাদবপুর কেন্দ্রে অভিনেত্রীর নাম ঘোষণার পর থেকেই বিতর্ক যেন তার পিছু ছাড়ছে না। রিকশায় তোয়ালি পেতে বসা কিংম্বা হ্যান্ডগ্লাভস পরে করমর্দন সব কিছুই বিতর্ক তৈরি করে। সেগুলিকে নিয়ে তৈরি হয়েছে বহু মিম। সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়ে যেতে দেখা গেছে মন্তব্যের ঝড়। এছাড়া যাদবপুরের মত ঐতিহ্যশালী কেন্দ্রে রুপোলি পর্দার নায়িকাকে অনেকে ঠিকভাবে দেখেননি। যে কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, মমতা ব্যানার্জি, সোমনাথ চ্যাটার্জি, কৃষ্ণা বসু, কবীর সুমন, সুজন চক্রবর্তীরা ষ,ৎসেখানে রুপোলি পর্দার নায়িকার মনোনয়ন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্ন ওঠে এই সংসদীয় ক্ষেত্রের গরিমা ও ঐতিহ্য নিয়ে।

সব সমালোচনা ও বিতর্কের বেড়াজাল ভেঙে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে অবশ্য মিমি চক্রবর্তী তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হন। এই কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন অধ্যাপক ডঃ অনুপম হাজরা। অন্যদিকে সিপিএমের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিলোত্তমার প্রাক্তন মেয়র তথা বিদগ্ধ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। মিমির এই জয়লাভ নিয়েও সমালোচনা চলতে থাকে। সমালোচনার তীর এবার এসে লাগে যাদবপুরের জনগণের উপর। যাদবপুরের মানুষ কি শিক্ষিত?নাকি অর্ধ শিক্ষিত অথবা অশিক্ষি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

যাদবপুরে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিজেপি প্রার্থী ড: অনুপম হাজরা মিমির জয় সম্পর্কে বলেছিলেন, আমি না জিতলেও অন্তত বিকাশবাবুও যদি জিততেন তবে এই আসনের ঐতিহ্য এবং গরিমা টা বাজায় থাকত।