সংখ্যালঘু তোষণের আড়ালে মোদীর থেকে মমতা বেশি হিন্দু তোষণ কারী, বলছে রিপোর্ট

পিএম নিউজ ডেস্ক: মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরুদ্ধে বারবার বিরোধীরা অভিযোগ করেছে যে তিনি নাকি সংখ্যালঘু তোষন করেন। কিন্তু রিপোর্ট বলছে যে সংখ্যালঘু দের চেয়ে তিনি হিন্দু ও অন‍্য সম্প্রদায়ের বেশি উন্নয়ন করেছেন। তবে তাকে ঘিরে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই তোষণের কারণেই তিনি নাকি হিন্দুর তুলনায় মুসলিম ধর্মীয় স্থানের সংস্কার থেকে আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় বেশি গুরুত্ব দেন। সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতেই নাকি মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো রাজনীতি করেন বলে বিরোধীরা বারবার তোপ দেগেছে। বিশেষ করে বিজেপি তথা গেরুয়া শিবির এই ইস্যুতেই নিশানা করেছে জোড়া ফুল নেত্রীকে। অথচ গত ৮ বছরে তৃণমূল সরকারের জমানায় তার প্রশাসন রাজ্যের বিভিন্ন হিন্দু মন্দির সংলগ্ন সংস্কার ও সংলগ্ন তীর্থস্থানের উন্নয়নে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৬ কোটি টাকার সাহায্য এসেছে কেন্দ্র থেকে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ বিভিন্ন দপ্তরের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে। রাজ্য বিধানসভার চলতি অধিবেশনে তৃণমূল বিধায়ক মানষ মজুমদারের এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর লিখিতভাবে এই তথ্য জানিয়েছে। আগাম জমা দেওয়া মানষ বাবুর এই সংক্রান্ত প্রশ্ন আলোচনার জন্য নির্বাচিত হলেও শেষ পর্যন্ত সময়ের অভাবে তা ওঠেনি অধিবেশনে।

তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মন্দির সংলগ্ন তীর্থস্থানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার গত কয়েক বছরে নিজস্ব বাজেট থেকে অন্তত ১৫৭ টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প খাতে খরচের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৪৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৭ টি প্রকল্পে গত পাঁচ বছরে মাত্র ৫ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির এর উন্নয়নের টাকা এসেছে ত্রয়োদশ অর্থ কমিশনের অনুদান বাবদ। এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুরের ডিহি-বাহির’র জগন্নাথ মন্দির, পূর্ব বর্ধমানের মানকরের কয়েকটি মন্দির, বীরভূমের নানুরের শিব মন্দির, বাঁকুড়া কোতুলপুরের দামোদর মন্দির, হুগলির গুরাপের নন্দদুলাল মন্দির এবং ওই জেলারই বাকসার ১২টি শিব মন্দিরে উন্নয়নে কেন্দ্রে টাকা ব্যয় করা হয়েছে বা হচ্ছে।

সরকারি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সাতটি বাদে বাকি ১৫০ টি মন্দিরের উন্নয়নে সরাসরি রাজ্য সরকারই অর্থ খরচ করেছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন পর্ষদ গুলির মাধ্যমে এই অর্থ খরচ করা হচ্ছে বা হয়েছে। মন্দির ও সংলগ্ন তল্লাটের মেরামতি, সংস্কার, সৌন্দর্যায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। কলকাতার কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বর, হুগলি তারকেশ্বর, গঙ্গাসাগরের কপিলমুনির মন্দির, বীরভূম তারাপীঠ ও কঙ্কালিতলা এবং জলপাইগুড়ির দেবী চৌধুরানীর মতো বিখ্যাত হিন্দু মন্দির ও তীর্থস্থান গুলি এই উন্নয়ন প্রকল্পের নকশা রয়েছে।

সুত্র: টিডিএন বাংলা