২৩ বছর পর বেকসুর খালাস পাওয়া আলি আব্বুর কবর আঁকড়ে কান্না

পি এম নিউজ, ডিজিটাল ডেস্ক : জেলের চার দেওয়ালে কেটেছে দীর্ঘ ২৩ বছরের জীবন। জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে অন্ধকার কুঠুরিতে। হারিয়েছেন নিজের বাবাকে। আব্বুর মরা মুখটাও একবারের জন্যও দেখতে পাননি। কারণ, জেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্যারল দিতে রাজি হয়নি। শেষবারের মতো আব্বুর মুখ দেখতে না পাওয়ার যন্ত্রণা বুকে নিয়েই কাটাতে হয়েছে দু’দশকের বেশি সময়। তা নিয়ে বারবার উথাল-পাথাল হয়েছে মন। আদালতের নির্দেশে বেকসুর খালাস পাওয়ার পর আব্বুর কবরের কাছে গিয়ে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। কবর আঁকড়ে ধরে ভেঙে পড়লেন কান্নায়। শোকে লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে। বেরিয়ে এল এতদিন ধরে চেপে রাখা বুকফাটা আর্তনাদ। তিনি শ্রীনগরের বাসিন্দা আলি ভাট। সুদীর্ঘ ২৩ বছর জেলে কাটানোর পর দু’দিন আগেই তাঁকে বেকসুর খালাস করার নির্দেশ দেয় রাজস্থান হাইকোর্ট। ১৯৯৬ সালে সামলেতি বিস্ফোরণ মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করেছিল।

১৯৯৬ সালের এই বিস্ফোরণ মামলায় আলি ভাট (৪৮) ছাড়াও পুলিশ লতিফ আহমেদ বাজা (৪২)– মির্জা নিসার (৩৯)– আবদুল গনি (৫৭) ও রইস বেগ (৫৬)-কে গ্রেফতার করেছিল। তাঁদের প্রত্যেককেই সোমবার রেহাই দেয় হাইকোর্ট। সোমবার হাইকোর্ট এই মামলা প্রসঙ্গে বলে– অভিযোগকারী পক্ষ এঁদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্রে এঁরা জড়িত ছিল এমন কোনও প্রমাণ্য নথি তারা পেশ করতে পারেনি। বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত ডা. আবদুল হামিদের সঙ্গে এঁদের যোগাযোগ ছিল এমন কোনও প্রমাণও অভিযোগকারী পক্ষ পেশ করতে পারেনি। উল্লেখ্য– হামিদের ফাঁসির সাজা হয়েছে।

মঙ্গলবার জেল থেকে বেরনোর পর এই পাঁচজন সাংবাদিকদের জানান– তদন্তকারী অফিসাররা তাঁদের গ্রেফতার করার আগে পর্যন্ত তাঁরা একে অন্যকে চিনতেনই না। বেগ আগ্রার বাসিন্দা ছিলেন। গনি জম্মু-কশ্মীরের ডোডা জেলার বাসিন্দা। বাকিরা শ্রীনগরের বাসিন্দা। পুলিশ যখন নিসারকে গ্রেফতার করে তখন সে একাদশ শ্রেণির ছাত্র। ভাটের কার্পেটের ব্যবসা ছিল। রাজা কাশ্মীরি হস্তশিল্প দিল্লি ও কাঠমান্ডুতে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতেন। আর গনি একটি স্কুল চালাতেন। গনি জানাচ্ছেন– গ্রেফতার হওয়ার পরে বুঝতে পারি কোন পৃথিবীতে এসে পড়েছি। আমরা যখন জেলে ছিলাম আমাদের অনেক প্রিয়জন মারা যায়। আমার আব্বা– মা ও দু’জন চাচা মারা যান। এখন আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু– হারানো সময়গুলো কে ফিরিয়ে দেবে? জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাড়ি ফিরে প্রথমেই আব্বুর কবরের কাছে জান ভাট। কবরের সামনে থাকা ফলকের গায়ে লেখা তাঁর আব্বুর নাম দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ভাট। পাশে থাকা লোকজনের তখন তাঁকে সান্তনা দেওয়ার ভাষা নেই। সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। পরে অবশ্য তাঁকে সেখান থেকে তুলে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন আত্মীয়রা। উল্লেখ্য– ১৯৯৬সালের ২২ মে দওসার সামলেতি গ্রামে জয়পুর-আগ্রা হাইওয়েতে বিস্ফোরণ হয়। দিল্লির লাজপত নগর বোমা বিস্ফোরণের ঠিক একদিন পরই এই বিস্ফোরড় হয়। তাতে ১৩জন নিহত হন।