দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্র সরকার দাঙ্গা পীড়িতদের উৎপীড়ন বন্ধ করুক: পিএফআই

উত্তর পূর্ব দিল্লীর দাঙ্গার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২৬০০ জনকে পুলিশি বন্দি বা গ্রেফতার করা হয়েছে যাদের অধিকাংশই হল মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য। দাঙ্গার শিকার হয়ে ৫৩ জন প্রান হারিয়েছে, যাদের অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। অফিসিয়াল সাইটে এই ৫৩ জনের খবর দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৫,০০ কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে। ১৯টি মসজিদ ও ৪টি মাদরাসা ধ্বংস করা হয়েছে বা তার ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। অনেক দোকান ও বাড়ি লুট করা হয়েছে যেগুলির মালিক অধিকাংশই মুসলিম। দাঙ্গার সময়ে জনগণকে তাদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে এবং এখনও তাদেরকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না যেমনটা হয়েছে শিব বিহারে।
এই দাঙ্গা যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে র অধিনে থাকা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারনেই ঘটেছে তা ণয়, এই ঘটনার সঙ্গে দিল্লি পুলিশও যুক্ত ছিল যেমন অনেক ভিডিও থেকে প্রমাণিত হয়েছে। এমনও দেখা গিয়েছে যে, পুলিশ সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে দিচ্ছে যাতে দাঙ্গাকারী ও দাঙ্গার প্রমাণ গায়েব করা যায়। আরো দেখা গিয়েছে যে, পুলিশ দাঙ্গার শিকার আহত জনগণকে জাতিয় সঙ্গীত গায়তে বলছে, সি এ এ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে দেওয়া আজাদির শ্লোগান দেওয়ার জন্য উপহাস করছে, দাঙ্গাকারিদের ইট পাথর তুলে দিয়ে সাহায্য করছে এবং দাঙ্গাকারিদের সঙ্গে তারাও পাথর ছুড়ছে।
রিপোর্টে এটাও জানা গিয়েছে যে, ফেব্রুয়ারির ২২ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে বিপদের বার্তা সম্বলিত ২১০০০ কল পেয়েছিল পুলিশ কন্ট্রল দফতর, তার মধ্যে শুধুমাত্র ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারিতে ১৩০০টি কল করা হয়েছিল। কিন্তু কোন কলের উপযুক্ত উত্তর দেওয়া হয়নি। পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালনে এতটাই অনিহা দেখিয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টও বলতে বাধ্য হয়েছে যে, যদি পুলিশ সক্রিয় ভুমিকা পালন করত এবং উস্কানী মূলক ভাষণ থেকে জনগণকে বিরত রাখত তাহলে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ত না এবং অনেক প্রান বাচানো যেত। দুঃখের বিষয় যে, পুলিশ তাদের রাজনৈতিক প্রভু ও দাঙ্গাকারিদের সন্তুষ্ট করার জন্য আইন অনুসারে তাদের কাজ করেনি। পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন না করার মাধ্যমে দাঙ্গাকারিদের সাহায্য করেছে, সঙ্ঘ পরিবারের গুণ্ডাদের নিরাপত্তা দিয়েছে, কখন কখন নিরাপরাধ মুসলিমদের উপর অত্যচার করেছে, হত্যা করেছে এবং তাদের ক্ষতিসাধন করেছে। পীড়িতদের আর্তনাদ তারা উপেক্ষা করেছে।
দেশে ও বিদেশে এই দাঙ্গার খবর ছড়িয়ে পড়লেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপির সাংসদগণ সংসদে দাবি করেন যে, ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে দাঙ্গাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এটা সাভাবিক ভাবেই হয়েছে। আসল সত্যটা হল যে, দাঙ্গা টানা ৭০ ঘণ্টা চলতে থাকে সেই রাজধানীতে যেখানে সংরক্ষিত প্যারা মিলিটারি কোম্পানীসহ ৮৭০০০ পুলিশ ফোর্স রয়েছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধততে নির্বাচিত কোন সরকারের ক্ষেত্রে এমনটা মেনে নেওয়া যায় না।
বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশের কায়দাতে কেন্দ্র সরকারের অধিনে থাকা দিল্লি পুলিশ CAA, NRC, NPR বিরোধী আন্দোলের নেতাদের নিশানা বানিয়ে চলেছে, যারা দাঙ্গার শিকার জনগণকে আইনী সহায়তা দিচ্ছে। দাঙ্গার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে একের পর এক মুসলিমের নাম যুক্ত করতেই আছে।

পুলিশি অত্যচারের বিরুদ্ধে বিরোধ প্রদর্শনের কথা পুলিশকে জানাতে গিয়েছিলেন পপুলার ফ্রন্টের দিল্লি রাজ্য সভাপতি পারভেজ আহ্‌মাদ ও মুহাম্মাদ ইলিয়াস এবং সেই সময়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। পূর্বে পপুলার ফ্রন্টের সদস্য দানিশকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অফিস সেক্রেটারি মোকিতকেও পুলিশি হিরাসাতে নেওয়া হয়। দিল্লি মেট্রপলিটান অফিসার প্রভ দীপ তাদেরকে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন। কোর্ট তদন্তকারী অফিসারকে ১৭ মার্চের মধ্যে লিখিত ব্যখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যে, তাদেরকে প্রথম আবেদনে কেন জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়নি, কারন তারা বেল পাওয়ার যোগ্য। পপুলার ফ্রন্টের নেতাদের তাড়াতাড়ি মুক্তি দেওয়া এটার প্রমাণ যে, তাদের বিরুদ্ধে কেস সাজিয়ে করা হয়েছে এবং সেই মামলা কোর্টে টিকবে না। মুসলিম যুবকদের বিরুদ্ধে একইভাবে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে এবং তাদেরকে হয়রান করার জন্য বন্দি করা হয়েছে। কোন নোটিশ ছাড়াই পপুলার ফ্রন্টের ১৩ ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত হবে বলে নির্ধারিত সম্মেলন করতে দেয়নি।
দিল্লি দাঙ্গার পর রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য কেন্দ্র সরকার ED, NIA, ইত্যাদির অপব্যবহার করছে। হুসাইনের বিরুদ্ধে Prevention of Money Laundering Act অনুসারে মামলা করা হয়েছে। Unite Against Hate নামক মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীদের উপর অত্যচার করা হয় পুলিশি হেরাসাতে রেখে। শুধু একটি সংগঠন, বা ব্যক্তি বা সংস্থাকে নিশানা বানানো হচ্ছে না বরং সকল বিরোধী আওয়াজ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের সেবা করার ইচ্ছা রাখে এমন সকল সংগঠনকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তারা তাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করতে না পারে।
ফলে সকল দল ও নাগরিকের নিকট আমাদের আবেদন তারা যেন গণতান্ত্রিক মুল্যবোধ ও দেশের আইন বিরোধী এই সকল কাজের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠান এবং আর এস এস বিজেপি বিরোধী আমাদের সম্মিলিত প্রতিরোধকে শক্তিশালী করেন, যাতে সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে রুখে দেওয়া যায়।
বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি মো: হাসিবুল ইসলাম, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ড: মো: মিনারুল সেখ ও উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি মাসুদুল ইসলাম।