কাশ্মীরের সত্য ইতিহাস কি ?

পিএম নিউজ ডিজিটাল ডেক্স: স্বাধীনতায় যখন ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠন হয়, তখন ভারত ও পাকিস্তানের বাইরেও ৫৫ টি স্বাধীন রাজ্য ছিল বিভিন্ন রাজার অধীনে। ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই ঐ সমস্ত রাজ্যগুলিকে নিজেদের রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল কুটনীতির দ্বারা বেশীরভাগ রাজ্যকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হন। কিন্তু প্যাটেলকে সবচেয়ে বেশী বেগ দিচ্ছিল তিনটি রাজ্য-নিজাম (হায়দ্রাবাদ), জুনাগড় , কাশ্মীর। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল চিন্তিত ছিলেন নিজাম কে নিয়ে। তিনি বলেছিলেন-ভারতের সীমারেখার ভীতরে একটি স্বাধীন রাজ্য ক্যান্সার এর মতো। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এর কাশ্মীরের বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ ছিল না। তিনি বলদেব সিং কে চিঠি লিখে বলেন – ৮০% মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীর যদি ভারতে যোগ না দেয় তাতে তার কিছু এসে যায় না। কিন্তু জওহরলাল নেহরু কাশ্মীরী পন্ডিত হওয়ায় তিনি যে কোনো মূল্যে কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন। গান্ধীজি ও চেয়েছিলেন কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্ত হোক। তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন- মুসলিম অধ্যুষিত একটা রাজ্য সেকুলার ভারতে ভালোভাবেই থাকতে পারবে। কিন্তু কাশ্মীরের রাজা হরি সিং ভারত-পাকিস্তান কোনো পক্ষেই যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু জওহরলাল নেহেরুর বন্ধু ছিলেন তৎকালীন কাশ্মীরের প্রধান দল ‘মুসলিম কনফারেন্স ‘(বর্তমানে ন্যাশনাল কনফারেন্স) এর প্রধান শেখ আব্দুল্লাহ (গৃহবন্দি ওমর আব্দুল্লাহ এর দাদু)। শেখ আব্দুল্লাহ কিছু শর্তের বিনিময়ে ভারত ভুক্তির পক্ষে ছিলেন। এই মনোভাব জানতে পেরে রাজা হরি সিং ভারত এবং পাকিস্তান দুই পক্ষকেই এগ্রিমেন্ট পাঠায় যে, কাশ্মীরের ভবিষ্যত নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অবস্থা বলবৎ থাকবে। পাকিস্তান ঐ চুক্তি পত্রে স্বাক্ষর ও করে এবং ভারত দর কষাকষি করার জন্য হরি সিংকে দিল্লি ডাকেন। এমতাবস্থায় পাকিস্তান চুক্তি ভঙ্গ করে কাশ্মীর আক্রমণ করে। তখন হরি সিং ভারতের সাহায্য প্রার্থনা করেন। ভারত সাহায্য করতে রাজী হয় কিন্তু কাশ্মীরকে ভারতের ভুক্তির দাবী রাখে। হরি সিং কাশ্মীরকে ভারত ভুক্তিকে রাজি হয় কিন্তু কিছু শর্তের বিনিময়ে। দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ‘ Instrument of Accession’। এই চুক্তির দ্বারা কাশ্মীর আইনি ভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু ডিফেন্স, এক্সটারনাল এফেয়ার্স, এবং কমিউনিকেশন ছাড়া অন্য বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এরপর ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে প্রবেশ করে এবং প্রথম ভারত- পাকিস্তান যুদ্ধ হয়। রাষ্ট্রপুঞ্জ এতে হস্তক্ষেপ করে এবং ভারত ‘Instrument of Accession’ দ্বারা প্রমাণ করে কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার প্রবেশ বৈধ এবং পাকিস্তান দখলদার। রাষ্ট্রপুঞ্জ পাকিস্তানকে কাশ্মীর থেকে সেনা সরিয়ে নিতে বলে এবং ভারত কে সেনার মিনিমাম প্রেজেন্স রাখতে বলে। Instrument of Accession এর শর্ত অনুযায়ী- ভারত ১৯৫৪ সালে Article ৩৭০ ভারতীয় সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করে।’Instrument Of Accession’ এ স্পষ্ট ভাবে বলা আছে এই আর্টিকেল শুধুমাত্র কাশ্মীরের Constituent Assembly অবলুপ্ত করতে পারবে রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে। কোনো এক পক্ষ এই আইন এককভাবে ভাঙতে পারবে না। ১৯৫৭ সালে কাশ্মীরের Constituent Assembly ভেঙে যায় ফলে এই আর্টিকেল পার্মানেন্ট হয়ে গেছে বলে সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি রায় দিয়েছে।

এমতাবস্থায় যদি ভারত এককভাবে আর্টিকেল ৩৭০ অবলুপ্ত করে, সেক্ষেত্রে কাশ্মীরের মানুষ এবং পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস এ কেস করবে এবং যেহেতু ভারত আর্টিকেল ৩৭০ অবলুপ্ত করেছে তাই ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশনের কোনো বৈধতা থাকবে না। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপুঞ্জ কাশ্মীরকে স্বাধীন রাষ্ট্র বলে ঘোষণা করবে। টেরিটোরি হয়তো ভারতের দখলে থাকবে কিন্তু অফিসিয়ালি এটা ইন্ডিয়া অকুপায়িড কাশ্মীর হয়ে যাবে এবং স্বাধীন কাশ্মীরের দাবী সারা বিশ্বে বৈধতা পাবে। অর্থাৎ আর্টিকেল ৩৭০ অবলুপ্ত করা নিজের পায়ে কুড়ুল মারার মতো নির্বুদ্ধিতা ছাড়া কিছুই না।

বাইরের লোক কাশ্মীরে জমি কিনতে পারবে না,এই আইন তৈরি হয়েছিল কাশ্মীরি পণ্ডিতদের দাবিতে।
১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে রাজা হরি সিং এই আইন তৈরি করেন।
পরে ভারত সরকার এই দাবি মেনে নেন।
কাশ্মীরের রাজা হরি সিং পাকিস্তানের সঙ্গে যেতে চেয়েছিলেন স্বাধীন রাজ্য থাকতে পারবেন বলে।
ওমর আবদুল্লাহের দাদু -শেখ আব্দুল্লাহ পাকিস্তানের সৈন্যদের সঙ্গে লড়াই করেন ভারতে থাকতে চেয়ে।
শেখ আব্দুল্লাহ লড়াই না করলে কাশ্মীর আজ ভারতে থাকতে পারতো না।

কাশ্মীর নয় নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ সিকিমসহ দেশের ১১ টি রাজ্যে, রাজ্যের বাসিন্দা ছাড়া বাইরের কেউ জমি কিনতে পারেন না।
শুধু কাশ্মীরকে টার্গেট কেন?
পশ্চিমবঙ্গসহ সারা দেশেই আদিবাসীদের জমি কেনা যায় না।
কাশ্মীরে যেতে আলাদা পারমিট নিতে হয় না।
কিন্তু অরুণাচল প্রদেশ নাগাল্যান্ড যেতে আলাদা পারমিট নিতে হয়।
সে নিয়ে কোনও কথা নেই।
কাশ্মীরকে সাম্প্রদায়িক কারণে টার্গেট করা হচ্ছে।