CAA/NRC বিরোধী বৈঠকে নেই মমতা, ১৮০ ডিগ্রি ডিগবাজি

ইফতিকার হোসাইন

CAA পাশ হওয়ার পরে রাজ্যের 30/35টি সংখ্যালঘু ও মানবাধিকার সংগঠনের ডাকে ঐতিহাসিক সভা বাতিল থেকে শুরু হয়েছে, এই ডিগবাজি …. এখন আস্তে আস্তে প্রকাশ পাচ্ছে।_____________________________________________ ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী জোটে যোগদান না করলে, বাংলার মানুষ আপনার নেতৃত্ব মেনে নেবে কেন?

বাংলার বাইরে তৃনমুলের কোন রাজনৈতিক শক্তি নেই। মোদী সরকারের অসাংবিধানিক ও অমানবিক CAA NPR NRC NRIC নীতির বিরোধিতা ও আইন বাতিলের দাবিতে দেশ জুড়ে গণ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গেলে সর্বভারতীয় বিজেপি বিরোধী দলগুলোর সাথে আপনার উপস্থিতি একান্ত জরুরি ছিল। কিন্তু আপনার ‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি’ নীতি রাজ্যের জনগনকে চুড়ান্ত অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে।

আপনি কি চান ….. বাংলায় লোক দেখানো CAA NRC বিরোধীতা করে ভোট ব্যাংক ঠিক রাখতে, অন্যদিকে মোদী সরকারের কালাকানুন ও থাকুক? আমরা আশা করেছিলাম, ‘ কেরলের ধাঁচে’ বিধানসভায় CAA বিরোধী বিল পাশ করিয়ে আপনি রাজ্যবাসিকে কালাকানুনের হাত থেকে রক্ষা করবেন। আজ যখন কংগ্রেস ও সিপিএম একত্রে CAA প্রস্তাব উত্থাপন করতে চাইছে, আপনি তা হতে দিলেন না। বিজেপি বিরোধী মুখ হিসেবে আপনি রাজ্যে কংগ্রেস ও সিপিএমকে রাজনৈতিক জমি ছাড়তে চাইছেন না… বোঝা গেলেও, সর্বভারতীয় স্তরে বৃহদ বিজেপি বিরোধী জোটে যোগদান না করে কিভাবে মোদী সরকারের কালাকানুন আটকাবেন… বোঝা গেল না।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হঠাৎ এই 180 ডিগ্রি বিপরীত রাজনৈতিক অবস্থানে রাজ্যের জনগন রাজনৈতিক অভিভাবকহীন হলেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রী-যুবযুবতী-শ্রমজীবী-কৃষক-বুদ্ধিজীবী ও সমস্ত বিজেপি-আরএসএস বিরোধী মানুষের গণ আন্দোলনের প্রতি আস্হা রাখা যায়। এই গণ আন্দোলন রাজ্যের মানুষকে সঠিক রাজনৈতিক দিশা দেখাতে পারবে ভরসা করা যায়। CAA বাতিল হয়নি, NPR আপাতত স্থগিত (উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা), এরপরে সেই কুখ্যাত ও অমানবিক NRC প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। ইতিমধ্যে রাজ্য বিজেপি CAA পাশ হওয়ার পরে NRC প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি নিয়ে পুস্তিকা প্রকাশ করেছে।

বিঃদ্রঃ বর্তমান ভারতের জনগন দু’টি শিবিরে বিভক্ত : রামজাদা ও হারামজাদা। তৃতীয় কোন পক্ষ নেই। অবশ্য ভারতীয় রাজনীতিতে মুলায়ম, নীতীশ এর মতো ডিগবাজি খাওয়া, ধান্দবাজ, সুবিধাভোগী, ক্ষমতালোভী নেতা/দল ও আছে।