কাশ্মীরের কবরে শান্তি বিরাজ করছে: বন্দি মুক্তি কমিটি

পি.এম.নিউজ;ডিজিটাল ডেস্ক: কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে গোলযোগের আশঙ্কায় বিভিন্ন বিধিনিষেধের মধ্যে বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের একাংশের দাবির মধ্যে, ভানু সরকারের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

ভানু সরকার বলেন, ‘প্রথমত, সেখানে প্রায় ৮ লাখের কাছাকাছি সামরিক বাহিনী উপস্থিত আছে। প্রত্যেক দশজনে একজন সামরিক বাহিনীর সদস্য সেখানে উপস্থিত। সেখানে (জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা) অজিত ডোভালের মনে হতে পারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অমিত শাহ অথবা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বাভাবিক মনে হতে পারে।

কিন্তু ভারতের সাধারণ মানুষ কোনও সময়েই যেখানে ৭/৮ লাখ সামরিক বাহিনী নিয়োজিত আছে সেই জায়গাকে স্বাভাবিক বলে মনে করে না এবং আমরা মানবাধিকার কর্মীরাও তো মনে করি না। স্বাভাবিক যদি হতো তাহলে সেখানে অত সামরিক বাহিনী রাখার দরকার হতো না। কাশ্মীরিদের একটা ম্যাসেজ দেয়া হচ্ছে যে, শান্তি তখনই ফিরবে যদি তুমি চুপ করে যাও। ভারতের সমস্ত অত্যাচার তুমি মুখ বুজে সহ্য করে নাও।

প্রতিদিন মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে, অত্যাচার করা হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষকে জেলে বন্দি করা হচ্ছে। এবং কুখ্যাত জননিরাপত্তা আইনে (পিএসএ) প্রচুর মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। দিনের পর দিন তাঁদেরকে বিনাবিচারে রাখা হচ্ছে। এ সমস্ত কিছু যদি ঠিকঠাক মেনে নাও তাহলে সেটা স্বাভাবিক হবে, শান্তি ফিরবে। আর যদি বলেন যে শান্তি? তাহলে বলতে হয় কবরের শান্তি। জম্মু-কাশ্মীরে বিশেষত কাশ্মীরে বর্তমানে কবরের শান্তি বিরাজ করছে।’

তিনি বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সামরিক বাহিনী যে অঞ্চলে নিয়োজিত তাঁর নাম হচ্ছে কাশ্মীর। সেখানকার অবস্থা আমাদের দেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নেতা-মন্ত্রীদের স্বাভাবিক মনে হতে পারে কিন্তু ভারতের সাধারণ মানুষ কাশ্মীরকে এখন স্বাভাবিক মনে করছে না। মানবাধিকার কর্মীরা কোনোদিনই মনে করি না যে কাশ্মীর স্বাভাবিক আছে। সেখানে মানবাধিকারের শেষ চিহ্নটুকু পর্যন্ত নেই বলেও ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার মন্তব্য করেন।