তামিলনাড়ুতে আটকে রয়েছে ভাঙড়ের বাসিন্দা

পিএম নিউজ ৩৬৫: কারও স্পাইনাল কর্ডের অপারেশন হয়েছে, তো কারও বাইপাশ সার্জারী হয়েছে।সবাই ঘরে ফেরার জন্য উন্মুখ।কিন্তু লকডাউনের জেরে প্রত্যেকে আটকে পড়েছেন মাদুরাইতে। কবে ফিরবেন কি ভাবে ফিরবেন তা কেউ জানেন না।ইতিমধ্যেই গচ্ছিত টাকাও শেষ হয়েছে। লজ কর্তৃপক্ষ হুমকি দিয়েছেন ঘর থেকে বার করে দেওয়ার। দু বেলা দু মুঠো খাওয়ার পয়সাও শেষ। এমত অবস্থায় স্থানীয় ও রাজ্যের প্রশাসনের দরজায় কড়া নাড়ছেন সবাই।প্রশাসন সাহায্যের আশ্বাস দিলেও দুর্গতদের কাছে কবে সাহায্য পৌছাবে বা আদৌ কোন সুরাহা হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান আটকে পরা মানুষেরা।ভাঙড় ২ ব্লকের বিডিও কৌশিককুমার মাইতি বলেন, ‘লকডাউনের জেরে বহু মানুষ বহু জায়গায় আটকে আছেন।কে কোথায় আটকে আছেন তাঁর একটা তালিকা তৈরি করা হচ্ছে প্রতিটা ব্লক থেকে।সেই তালিকা উর্দ্ধতন কক্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে।‘

কাশীপুর থানার জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা ৫৯ বছরের হাজারা পদ সরদারের মেরুদন্ডে ক্ষয় রোগ ধরেছিলে বছর কয়েক আগে।কলকাতার সবকটি হাসপাতাল ঘোরাঘুরি করে অবশেষে ঠিক করেন তামিলনাড়ুর মাদুরাই শহরে মীনাক্ষী মিশন হসপিটালে অপারেশন করাবেন।সেইমত ছেলে স্বপন সরদারকে নিয়ে গত ১১ মার্চ মাদুরাই যান তিনি।দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে সফল অপারেশন হয়।২৪ তারিখ তিরুচিরাপল্লী থেকে ট্রেন ধরার কথা ছিল বাবা-ছেলের। তাঁর আগেই ২৩ তারিখ থেকে গোটা দেশ জুড়েই চলছে লকডাউন।ফোনে হাজারিপদ জানালেন, ‘পঞ্চাশ হাজার টাকা অতিরিক্ত এনেছিলাম, সব শেষ।লজের প্রত্যকেদিনের ঘর ভাড়া ৫০০ টাকা করে, মিল ৭০ টাকা। আমাদের হাতে আর কোন পয়সা নেই।

হুগলির হরিপালের বাসিন্দা রতনচন্দ্র ঘোষের বছর ছয়েক আগে বাইপাশ সার্জারী হয়েছিল।তিনি চেক আপে গিয়েছিলেন।গত পাঁচ দিন ধরে তিনিও আটকে আর পণের জন মানুষের সাথে।নিজের এলাকায় জয়েন্ট বিডিও,এমএলএ,এমপিকে বলেও রেসপন্স পাইনি।‘দিদিকে বলো’তেও কথা বলে ফল পাননি রতন। লজ কর্তৃপক্ষ বলেছেন বকেয়া না মেটাতে পারলে ঘর ছেড়ে রাস্তায় থাকতে।‘ রতনের কাতর আর্তি, ‘লকডাউনের সময় যদি রাজ্যে ফিরতে অসুবিধা হয় তবে এখন নাই বা ফিরলাম।কিন্তু এখানে যেন মাথা গোঁজার ঠাই পাই আর দু বেলা দু মুঠো খাবার পাই সেই ব্যবস্থ করুক প্রশাসন।‘