অনেক পথ বাকি! বাড়ি ফিরতে ১০০ কিমি পথ হােঁটে অসুস্থ গর্ভবতী

পিএম নিউজ ডেস্কঃ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলি করোনার থাবায় ঘায়েল হয়েছে। চীন, আমেরিকা, ইতালির মত উন্নত দেশগুলিতে করোনা রক্তের কালো দাগ ফেলে দিয়েছে যা ইতিহাসের পাতায় কালোদিন হিসাবে স্থান পাবে। ভারত একমাত্র দেশ যা সামনে থেকে করোনার বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই চালাচ্ছে। কিন্তু হঠাৎকারেই লক ডাউন সিদ্ধান্তে যে ভিন রাজ্যের শ্রমিকরা অনেক বড়ো সমস্যার সম্মুখীন তা বলার অবকাশ রাখেনা। বন্ধ কাজ-কারবার৷ অথৈ জলে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো৷ অধিকাংশ জায়গায় শ্রমিকদের বেতন না দিয়েই কাজ থেকে ছুটি দিয়ে দিয়েছেন মালিকরা৷ তাঁরা খাবেন কি? বেঁচে থাবকেন কি ভাবে? প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে তাই মাইলের পর মাইল হেঁটে তাঁরা পাড়ি দিয়েছেন বাড়ির পথে৷

অসহায় হয়েই স্বামীর হাত ধরে পথে নামেন আট মাসের গর্ভবতী ইয়াসমিন৷ সাহারানপুর থেকে বুলান্দশহরে বাড়ির পথে পা বাড়ান তাঁরা৷ সঙ্গে নেই এক ফোঁটা খাবার৷ প্রখর রৌদ্রে পথ চলতে চলতে তাঁরা ক্লান্ত-অবসন্ন৷ এই অবস্থায় এই দম্পতির দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন স্থানীয় কিছু মানুষ৷

সাহারানপুর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ হেঁটে মীরুটে পৌঁছন ইয়ায়মিন ও তাঁর স্বামী ভাকিল৷ সেখানেই ওই দম্পতি স্থানীয় বাসিন্দা নবীন কুমার এবং রবীন্দ্রর নজরে আসেন৷ তাঁদের করুণ অবস্থা দেখে ওই দম্পতির পাশে দাঁড়ান তাঁরা৷ নওচান্দি থানার সাব-ইন্সপেক্টর প্রেমপাল সিংকে ইয়াসমিন ও ভাকিলের সমস্যার কথা জানান প্রবীণরা৷ থানার ইনচার্জ আশুতোষ কুমার জানান, প্রেমপাল ওই দম্পতির হাতে কিছু খাবার-দাবার, টাকা পয়সা তুলে দিয়েছেন৷ তাঁরা যাতে সুষ্ঠুভাবে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছতে পারেন, তার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করা হয়েছে৷

ইয়াসমিন পুলিশকে জানান, ফ্যাক্টরির একটি ঘরে তাঁদের ঠাঁই দিয়েছিলেন মালিক৷ কিন্তু লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পরই ঘর খালি করে দিতে বলে হয় তাঁদের৷ তবে বাড়ি যাওয়ার জন্য একটা কানাকড়িও দেওয়া হয়নি তাঁদের৷ কোনও বিকল্প পথ খুঁজে না পেয়ে বৃহস্পতিবার হাঁটা শুরু করেন তাঁরা৷ ইয়াসমিন বলেন, গত দু’দিন ধরে আমাদের কাছে কোনও খাবার নেই৷ রাস্তার পাশে কোনও খাবারের দোকান খোলা পাইনি৷ অভুক্ত অবস্থাতেই হেঁটে চলেছি৷