বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বজ্ঞানহীন রুটিনে সমস্যায় পড়েছে মুসলিম পড়ুয়ারা, ধিক্কার জানিয়েছে মুসলিম সংগঠনের নেতারা

পি এম নিউজ,ডেস্ক:এবছর বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের আগের দিন ও ঈদের পরের দিন পরীক্ষা। ফলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম পড়ুয়ারা বাড়িতে পরিবারের সাথে ঈদ করতে না পারার আশঙ্কায় সমস্যায় পড়েছে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৫ জুন ঈদ-উল-ফেতর। ওই দিন ঈদ হলে, এবারে রমযান মাস শেষ হবে ২৯ দিনে। অর্থাৎ ২৯ রোজার পরেই আসবে ঈদ-উল-ফিতর। কারণ,এবছর রোযা শুরু হয়েছে ৭ মে থেকে। যদি ৪ জুন চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে ক্যালেন্ডারে থাকলেও ৫ জুন ঈদ-উল-ফিতর হবে না। তখন ঈদ হবে ৬ জুন। ফলে চাঁদের উপর নির্ভর করেই পালিত হয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর।অথচ, এই হিসাব মাথায় না রেখে ৫ জুন ঈদ ধরে নিয়ে ৪ ও ৬ জুন পরীক্ষার রুটিন ফেলে দিল ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি, যেটা বারাসত বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে পরিচিত। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে সমস্যায় পড়েছে মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা।
গতবছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিনে ঈদের আগের দিন ও পরের দিন পরীক্ষা ছিল। সেই পথে হাঁটছে বারোসাত বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি, বিএ, বিএসসি, বি কম, এবং বিবিএ , পার্ট টু অনার্সের পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়। রুটিন অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ৩ জুন থেকে। শেষ হবে ১১ জুন। শুরু বা শেষ নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। আপত্তি উঠেছে ৪ ও ৬ জুনের পরীক্ষা নিয়ে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫ জুন ঈদ হলে, ঈদের আগের ও পরের দিন পরীক্ষা। সেক্ষেত্রে দূরের জেলার পড়ুয়ারা বাড়ি গিয়ে ঈদ পালন করতে সমস্যায় পড়বেন। কারণ, দূরের ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দিয়ে সময় মতো বাড়ি ফিরতে পারবে না। আবার বাড়ি ফিরলেও, পরের দিনই আসতে পারবে ও না। এর ফলে বাড়ির সকলের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় উৎসব পালনে বঞ্চিত হবে ছাত্রছাত্রীরা। এখন যদি ৫ তারিখ ঈদ না হয়ে ৬ জুন ঈদ হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষ কি সিদ্ধান্ত নেবে। তখন শেষ মুহূর্তে রুটিন পরিবর্তন করতে গিয়ে সমস্যা দেখা দেবে। যার ফলে সমস্যায় পড়বে মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন রুটিনে সমস্যায় পড়েছে মুসলিম পরীক্ষার্থীরা।

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সংখ্যালঘু সমস্ত নেতারা সমালোচনা করেছেন। বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে ধিক্কার জানিয়েছেন সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক কমারুজ্জ্মান। তিনি বলেন, বহু ছেলেমেয়ে হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করে। ঈদের আগে ও পরের দিন পরীক্ষার জন্য তারা বাড়ি ফিরে ঈদ পালন করতে পারবে না। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করব এই রুটিন প্রত্যাহার করে ঈদের আগে ও পরের দিন ছুটি দিয়ে নতুন করে পরিক্ষার রুটিন তৈরি করা হোক।’

ফুরফুরা শরীফের মুখ্য নির্দেশক পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী। তিনি বলেন,
এমনিতেই ঈদের ছুটি নিয়ে মুসলিমদের বঞ্চিত করছে রাজ্য সরকার। বারবার অনুরোধ করেও ঈদের ছুটি বাড়ানো হয়নি। অথচ, পুজোর ছুটি কোনও আবেদন ছাড়াই বাড়ানো হয়েছে।এতে আমরাও খুশি।কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায় কী দোষ করল ? বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে যারা আছেন, তাঁরাও কি অমানবিক, দায়িত্ব জ্ঞানহীন।রুটিন তৈরি করার আগে একবারও কি তাদের মনে হল না। সারা মাস রোযা করে এই সমস্ত ছেলেমেয়েরা বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে ঈদ পালন করুক। আমার দাবি , ঈদের আগে ও পরের দিন ছুটি ঘোষণা করতে হবে।’

যদিও বিষয়টি নজরে আসার পরেই পড়ুয়াদের স্বার্থে কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তথা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃনাঙ্কর ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘রুটিন প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি আমার নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলি। বাড়ি গিয়ে ঈদ পালন করতে ছাত্রছাত্রীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে। আমরাও আশাবাদী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসব চৌধুরী বলেন, আমরা অসংবেদনশীল কিছু করব না। যাতে করে ঈদ পালনে ছাত্রছাত্রীদের কোনও সমস্যায় পড়তে হয়।’ তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামকের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।