“ভরসার হাত” সম্প্রীতি নিয়ে প্রবন্ধ লিখলেন বিশিষ্ট কবি কারিমুল ইসলাম

 

বিজেপির বিরুদ্ধে মূল স্লোগান হোক দেশের উন্নতি ও সম্প্রীতি …….কবি কারিমুল ইসলাম…….

“করিম! ওই করিম “একটা কণ্ঠ ভেসে আসলো কানে। জানালার বাইরে নীল আকাশ থেকে চোখ সরিয়ে জল টলমল ঝাপসা চোখে বাসের গেটের দিকে চাইলো করিম।

প্রান্তিক ডাকছে।ওরা দু’জনেই বিধাননগর কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। করিম লক্ষ্য করল প্রান্তিকের ডাক কানে আসতেই সে চমকে উঠল। আরও অদ্ভুতুড়ে ব্যাপার হল তার মনে কোথাও যেন একটা ভয় ভয় ভাব। কেন এমন হল! এ ডাক সে অনেকবার শুনেছে, ওর এ হাসি মুখ অনেকবার দেখেছে। হৃৎপিণ্ডের লাব – ডাব শব্দকে ছাপিয়ে তার মন থেকে অতি ভয়ানক আওয়াজে একটি শব্দ তার কানে আসছে “গো – রক্ষক বাহিনী “।
প্রান্তিক হিন্দু। তবে ও তো গো পুজারী! গোরু ওদের মাতা! ওদের দেবী!! আর আমি! আমি তো মুসলিম! গোরুর মাংস খায়! তবে আমিতো ওর শত্রু!! ও কি আামাকে মারতে আসছে!!! আমি কি পালাবো!!! চোখ তুলে তাকালো।
হ্যাঁ! কি সর্বনাশ! ও তো ভীড় ঠেলে এদিকেই আসছে। এক্ষুনি পালাতে হবে। ও কি চিৎকার করবে!! পুলিশ ডাকবে! কিন্তু লাভ আছে কি? রক্তাক্ত আকবর কে তো চার ঘন্টা ফেলে রেখে মারলো পুলিশই!
কি সর্বনাশ!
এ কি আামার সেই সোনার ভারতবর্ষ! আমার মহান দেশ!

কাঁধে একটা হাত দিয়ে ঝাঁকড়ানি দিল কে। চমকে উঠল করিম। থতমত খেয়ে চেয়ে দেখল প্রান্তিক তাকে ডাকছে।
“কি হয়েছে তোর শরীর খারাপ নাকি! জল খাবি? “প্রান্তিক বলল।তার সারা মুখে একরাশ জিজ্ঞাসা। নিজেকে সামলে নিয়ে করিম প্রান্তিকের কাছে থেকে জল নিয়ে খেল।
ধাতস্হ হয়ে ভাবতে চেষ্টা করল। কি হয়েছিল তার। বুঝল অতিরিক্ত চিন্তার ফল তার এই মানুষিক অস্থিরতা।

সকাল সোশাল মিডিয়া ও খবরের কাগজ থেকে সে জেনেছে। রাজস্থানে আাবার গো রক্ষকের হাতে প্রাণ গেল দুধ ব্যাবসায়ী আকবরের। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে তার স্ত্রী, মা,বোন ও এতিম পাঁচটি বাচ্চার বুক ফাটা কান্নার চিত্র। নরম মনের করিমের মনটা কেঁদে উঠেছিল আকবরের দুই বছরের এতিম ছেলের কান্না দেখে। সে মায়ের কোলে বসে কানছে! সে কি বুঝেছে তার আব্বার ওপর ঘটে যাওয়া এ সন্ত্রাস।
ও কি সমাজে আমরা যারা বেঁচে আছি তাদের কাছে কাঁদতে কাঁদতে তার আব্বাকে ফিরিয়ে দিতে বলছে নাকি সে বোঝেইনি তার আব্বা মারা গিয়েছে।যেমন আজও মোল্যারা বোঝেনি বিপদ আসন্ন।

মোক্ষম কথাটা ছিল দ্বিতীয় প্যারার শেষের দিকে।
“আকবরের দুই বছরের ছেলে সবেমাত্র আব্বা বলতে শিখেছে! আকবরের স্ত্রী বলল – “ও