ভাঙড়ে ২০১৯ শে সাবেকি সাজে দুর্গাপুজো করবে শতধারা

নিজস্ব প্রতিনিধি,পি এম নিউজ, ভাঙড়:
গত দু-তিন বছরে কম অশান্তি দেখেনি ভাঙড়। কখনো পাওয়ার গ্রিড আন্দোলন কখনো গোষ্টী সংঘর্ষ নিয়ে বারে বারে উত্তাল হয়েছে ভাঙড়ের বিভিন্ন গ্রাম।

সারাবছর সংসারের হাড়ভাঙা খাটুনি আর এলাকার অশান্ত পরিবেশ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে মাতৃ আরাধনা শুরু করেছিলেন ভাঙড়ের কাশীপুর গ্রামের মহিলারা।
এবার চারে পা দিল কাশীপুর শতধারা প্রমিলা সংঘের শারদোৎসব।

এই পুজোর চাঁদা সংগ্রহ থেকে, প্যান্ডেল,ঠাকুর আনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্টান সবকিছুই করেন গণ্ডগ্রামের মহিলারা।প্রথম সারিতে অবশ্য থাকেন সমাজের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মহিলারা। সেইসব মহিলা মানসিক অসুস্থতার কারনে আজ ঘর বাড়ি ছেড়ে কাশীপুরের ‘নয়াগ্রাম’ মানসিক হোমে বাস করছেন। আরেকটা বড় ব্যপার হল এটা সম্প্রীতির পুজো। হাসেম চাচা, সোনা বিবি, ফতেমা মোল্লা, মিজানুর রহমানরা এ পুজোর প্রাণ।এঁরাই বড় ভূমিকা নেন সংঘের পুজো সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনা করতে সবরকম সাহায্য করা।

আমজনতার প্রশাংসা পাওয়া এই পুজো পেয়েছে প্রশাসনিক স্বীকৃতি। ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতি ও কাশীপুর থানা বাড়িয়ে দিয়েছে সহযোগিতার হাত।

‘আটচালার চালচ্চিত্রে দেবী দুর্গাতিনাশিনী’ এই ভাবনাকে পাথেয় করে ২০১৯ সালে সাবেকি সাজে দুর্গাপুজো করবে শতধারা। বাশ,কাঠ, বিচালী দিয়ে আটচালা মন্ডপ নির্মান করছে দাস ডেকরেটার্স এর টুলু দাস । মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য মিলিয়ে এক চাল চিত্রে সাবেকী রুপের প্রতিমা তৈরি করেছেন রাজারহাটের শিল্পী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস।

এবছর মণ্ডপ এবং প্রতিমা রীতি মেনেই সাবেকী কিন্ত অঙ্গসজ্জা ও প্রচারভাবনা হল ‘জল বাঁচাও জীবন বাঁচাও’জল বাচানোর ওপর নিয়মিত প্রচার, ব্যানার ফেস্টুন, আলোচনা সভা, গাছ লাগানো কর্মসূচী নিয়েছি শতধারা কর্তৃপক্ষ।

রবিবার মহাধুম ধামের সঙ্গে ‘খুটিপুজো করলো শতধারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিশ্বজিৎ মন্ডল, কাশীপুর থানার ওসি বিশ্বজিৎ ঘোষ। পাপিয়া, কাকলি, রীনা, অপর্ণা, দীপিকা,জয়ন্তীদের আন্তরিক আপ্যায়নে সুষ্ঠ ভাবে সমাপ্ত হয় এদিনের মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান।