মুসলিমরা কারও দয়ায় ভারতে থাকে না, আমরা হাজার বছরের ভূমিপুত্র : আহমেদ হাসান ইমরান

পিএম নিউজ, ডিজিটাল ডেস্ক : সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য ও দৈনিক ‘পুবের কলম’ পত্রিকার সম্পাদক আহমেদ হাসান ইমরান বলেছেন, ‛মুসলিমরা কারও দয়ায় এই ভারতে থাকে না। এই ভারতে আমরা হাজার বছর ধরে রয়েছি। এই ভারতে আমরা ভূমিপুত্র। আমাদেরকে এনআরসির নামে বিদেশি বলে ঘোষণা করবে এই জিনিস আমরা হতে দেব না।’ তিনি কলকাতার রবীন্দ্র সদনে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ আয়োজিত ‘শান্তি ও একতা’ সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে ওই মন্তব্য করেন।

আহমেদ হাসান ইমরান বলেন, ‘আমরা এমন লোক যে, আমরা মারা গেলেও এখানকার মাটিতে কয়েক হাত জমিনে শুয়ে থাকি। মারা যাওয়ার পরেও আমরা ভারতকে ছেড়ে যাই না। আমরা ভারতকে এত ভালোবাসি! আমরা ভারতের মুসলিমরা মারা যাওয়ার পরে কয়েক হাত কবরে মরে যাওয়ার পরে শুয়ে থাকি। আমরা আমাদের ইমান নিয়ে আমাদের অধিকার নিয়ে আমরা এখানে বেঁচে থাকতে চাই।’

এদিনের সমাবেশে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের আনা সাম্প্রতিক ‘বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ) সংশোধনী বিল’ পাসকে ‘কুখ্যাত কালা কানুন’ বলে অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। আহমেদ হাসান বলেন, লোকসভায় দানব জাতীয় একটা বিল পাস হয়েছে। এখনও তা আইনে পরিণত হয়নি। এটা ভারতের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটা বিপদ হিসেবে আসছে। কিন্তু সেই সঙ্গে এই বিপদ বিশেষ করে আসছে সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপরে। ওই বিলের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করা যেতে পারে! পুলিশ ইচ্ছে করলে যাকে তাকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করতে পারবে! তার সম্পত্তিও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করতে পারবে! ভাবুন, কোনদিকে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে। প্রমাণ ছাড়াই সন্দেহ হলেই আপনাকে গ্রেফতার করতে পারবে। সন্ত্রাসী ঘোষণা করতে পারবে। ‘টাডা’, ‘পোটা’র মতো কুখ্যাত আইনকে ছাড়িয়েও ওই আইন তৈরির চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার দিয়েছে। কিন্তু এসব অধিকার হনন করে ওই আইন পাস হতে চলেছে। রাজ্যসভায় ওই বিল পাস হলে তা আইনে পরিণত হয়ে যাবে। তার প্রশ্ন, এটা কী গণতন্ত্র, যা সংবিধানকে উল্লঙ্ঘন করে? তিনি এব্যাপারে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
জনাব আহমেদ হাসান অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি আইনকে কালা কানুন বলে উল্লেখ করে এনআরসির নামে অসমের ট্রাইব্যুনালগুলোতে সেখানকার মানুষজন কীভাবে চরম হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তা বিস্তারিত উল্লেখ করে সকলকে সতর্ক থাকতে বলেন।

আমাদের সংবিধান সংখ্যালঘু হিসেবে যে অধিকার দিয়েছে ভারতের নাগরিক হিসেবে যে অধিকার দিয়েছে আমরা সেই অধিকারের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষার্থে সুনাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে চাই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।