২০ আগস্ট পর্যন্ত হয়ত উদ্বেগ কাটবে না ইসরোর, চরম উত্তেজনায় প্রহর গুনছেন কন্ট্রোল রুমের বিজ্ঞানীরা

নিউজ ডেস্ক, পিএম নিউজপ্রায় ১ হাজার কোটি টাকার ‘চন্দ্রযান-২’ এর ভাগ্য যেন এখনো ভাগ্যের হাতে। বেশ টানটান উত্তেজনায় সময় কাটছে ইসরোর চন্দ্রযান-২ এর মিশন কন্ট্রোল রুমের বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের। উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া যথাযথ ভাবে মিটলেও তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ এখনো বিদ্যমান যা হয়তো ২০ আগস্ট পর্যন্ত থাকবে। কন্ট্রোল রুমে কাটানো প্রতিটা সেকেন্ড যেন দীর্ঘ দৈর্ঘ্যের বলে মনে করছেন তাঁরা। কাজের শিফ্‌ট শেষে রুমে ফিরেও চিন্তার অবসান ঘটছে না বলে জানান ইসরোর এক প্রযুক্তিবিদ। তাঁর কথা অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত তাদের খাওয়া ঘুম এক রকম বন্ধ। তবে কি ২০ আগস্টেই চন্দ্রযান-২ এর সমস্ত বিপদ আশঙ্কা শেষ? উত্তরে জানা যায় এখনও পর্যন্ত যা হিসাব, তা যদি ঠিক ভাবে চলতে থাকে তাহলে চন্দ্রযান-২ চাঁদে যাওয়ার সোজা রাস্তায় (লুনার ট্রান্সফার অরবিট) ঢুকবে আগামী ১৪ অগস্ট। যেটা কিনা চাঁদের বৃত্তাকার কক্ষপথ। যার ব্যাসার্ধ অনেকটাই তাই সেটি অতিক্রম করতে চন্দ্রযান-২ এর সময় লাগবে আরো ৫-৬ দিন অর্থাৎ ২০ আগস্ট চন্দ্রযান-২ পৌঁছবে চাঁদের কাছের কক্ষপথে। তখন ইসরোর কন্ট্রোল রুমের সদস্যরা একটু হলেও স্বস্তির আশ্বাস পাবেন। কেননা তখন চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির জালে, যার ফলে চাঁদ থেকে ছিটকে মহাকাশের এদিক ওদিক চলে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
তার পর হয়তো আবার চিন্তায় পড়তে হবে চন্দ্রযান-২ মিশন সদস্যদের। কেননা সেপ্টেম্বরের ৩/৪ তারিখ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরেই যে চাঁদে আলতো ভাবে পা ছোঁয়াতে চলেছে চন্দ্রযান-২ এর ল্যান্ডার ‘বিক্রম’!

ইসরোর মিশন কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই দুপুর ২টো ৪৩ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় চন্দ্রযান-২। উৎক্ষেপণের ১৬ মিনিটের মধ্যেই (আনুমানিক দুপুর ২টো ৫৭ মিনিট নাগাদ) চন্দ্রযান-২-কে পিঠে চাপিয়ে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ‘জিএসএলভি-মার্ক-৩’ পৌঁছে যায় ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭০ কিলেমিটার উপরে এবং পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে শুরু করে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে।

উৎক্ষেপণ সময়কাল থেকে চাঁদে পৌঁছাবার আনুমানিক সময়কাল পর্যন্ত চন্দ্রযান-২- এর সময় লাগছে প্রায় ৪২ দিন। যেখানে নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরির এক বিজ্ঞানীর কথায় ১৯৬৯ সালে তাঁরা ‘স্যাটার্ন-ফাইভ’ রকেটে চাপিয়ে পাঠিয়েছিলেন অ্যাপোলো-১১ মিশন। তা উৎক্ষেপণের পর চাঁদের বুকে নামতে সময় নিয়েছিল মাত্র ৪ দিনের সামান্য বেশি। গত বছরে চিন পৃথিবী থেকে চাঁদের বিপরীত পিঠে ল্যান্ডার ও রোভার পাঠিয়েছে উৎক্ষেপণের পর মাত্র পাঁচ দিনে। যাইহোক ভারতের পাঠানো দ্বিতীয় চন্দ্রযান চাঁদে পা রাখাটাই সমস্ত ভারতীয়র স্বপ্নের। তাই সকলেই উদ্বিগ্নতার সঙ্গে অচির আগ্রহ নিয়ে প্রতি প্রহর গুনছে।