নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুহূর্তের বশে মন্তব্য করেছে বিরাট , সমর্থন করে মুখ খুললেন বিশ্বনাথন আনন্দ

ভারতকে সমর্থন না করায় এক ফ্যানকে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। তারপর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়। ফ্যান থেকে শুরু করে হর্ষ ভোগলের মতো ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ সবাই বিরাটের এই বক্তব্যের নিন্দা করেছেন। যদিও বিরাট পাশে পেয়েছেন আইপিএল চেয়ারম্যান রাজীব শুক্ল, প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফের মতো ব্যক্তিত্বকে। এ বার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ভারতের দাবার সম্রাট বিশ্বনাথন আনন্দ।

কোহলির মন্তব্যের ব্যাপারে বলতে গিয়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বিশ্বনাথন আনন্দ বলেন, ” আমার মনে হয় ও নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। ওই ফ্যানের কথা শুনে বিরাট ইমোশনাল হয়ে পড়েছিল। তাই যে কথাটা ওর মাথায় এসেছে সেটাই ও বলে দিয়েছে।” অবশ্য এই মন্তব্য করার আগে কোহলির ভাবা উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি। আনন্দ বলেন, ” কোহলির ভাবা উচিত ছিল বিদেশেও ওর ফ্যান আছে। তাঁদেরকে তো দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা কেউ বলে না। এই বিষয়কে সম্মান জানানো উচিত বিরাটের।

সমালোচনা করলেও বিরাটের পক্ষেই কথা বলতে দেখা যায় বিশ্বনাথন আনন্দকে। ৪৮ বছরের এই দাবা চ্যাম্পিয়ন বলেন, ” আমার যেটুকু মনে হয়েছে, সেই সময় হয়তো বিরাটের মনও খুব একটা ভালো ছিল না। সেই সময় এই ধরণের মন্তব্যের পর বিরাট আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেনি। কিছুটা বিরক্ত হয়ে মুহূর্তের বশে এই কথা বিরাট বলে ফেলেছে। ”

এই ধরণের ঘটনা যে তাঁর সঙ্গেও হয়েছে, সে কথাও বলেন আনন্দ। তিনি বলেন, ” আমার সঙ্গেও এই ঘটনা ঘটেছে। অনেক সময় থাকে যখন আই ব্যাপারে আপনি কোনও মন্তব্য করবেন না। আবার অনেক সময় ইমোশনাল হয়ে আপনি মন্তব্য করে ফেলেন। বিরাটের এই মন্তব্যের পর এই বিষয়ে কম কথা হয়নি। যাঁদের এটা ভালো লাগেনি, তাঁরা বিরাটের সমালোচনাও করেছেন। তাই আমি মনে করি এই ব্যাপারটা এ বার এখানেই থামিয়ে দেওয়ায় উচিত। ”

সঙ্গত, বুধবার নিজের জন্মদিন উপলক্ষ্যে একটি অ্যাপ লঞ্চ করেছিলেন কোহলি। সেই অ্যাপে সরাসরি ফ্যানদের সঙ্গে কথা বলছিলেন ভারত অধিনায়ক। তখনই এক ফ্যান মেসেজ করে বলেন, ” বিরাট একজন ওভার-রেটেড ব্যাটসম্যান। আমি ওর ব্যাটিংয়ে স্পেশ্যাল কিছু দেখতে পাই না। ভারতীয় ক্রিকেটারদের থেকে আমি অস্ট্রেলিয়ান, ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের ব্যাটিং বেশি পছন্দ করি।”

এর উত্তরে বিরাট বলেন, ” আমার মনে হয় আপনার ভারতে থাকা উচিত নয়। অন্য কোথাও গিয়ে থাকুন। কেন আপনি ভারতে থেকে অন্য দেশকে সমর্থন করছেন? আমাকে আপনার পছন্দ নয়, সেটাতে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু আমার মনে হয় ভারতে থেকে অন্য দেশের কিছু পছন্দ করা উচিত নয়। নিজের পছন্দ বোঝা উচিত। সেই অনুযায়ী কাজ করুন।”

বিরাটের এই মন্তব্যের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে যায় জল্পনা। কেউ কেউ সমর্থন করেন বিরাটকে। তবে বেশিরভাগ নেটিজেন এর বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। কেউ বলেন, সবার পছন্দ এক নাও হতে পারে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের পছন্দ না হলে তাঁকে ভারত ছাড়ার কথা বলার বিরাট কে? আবার কেউ বলেন, তাহলে বাইরের দেশে বিরাট কোহলির বা ভারতীয় ক্রিকেটের যে সমর্থকরা আছেন, তাঁদেরও কি নিজেদের দেশ ত্যাগ করে ভারতে থাকা উচিত? এটাই কি বলতে চাইলেন বিরাট? সমালোচনা করেন হর্ষ ভোগলের মতো ক্রিকেট বিশেষজ্ঞও।

তারপরেই নিজের বক্তব্যের সমর্থনে টুইটারে বিরাট লেখেন, ” আশা করি এই ট্রোলিং আমাকে উদ্দেশ্য করে নয়। সত্যি কথা বলতে কি ট্রোলড হতে হতে আমি ক্লান্ত। তাই আমার এতে কিছু যায় আসে না। ‘দিজ ইন্ডিয়ান্স’, এই কথা দুটো যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটা আমার ভালো লাগেনি। তাই আমি আমার বক্তব্য রেখেছিলাম। আমি ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। তাই এই ব্যাপারটাকে হালকা ভাবেই নেওয়া উচিত। উৎসবের মরশুম সবাই উপভোগ করুন। সবার জন্য ভালোবাসা। সবার শান্তি কামনা করি।”

তারপরেও সমালোচনা থামেনি। এখন দেখার বিশ্বনাথন আনন্দের মতো খেলার দুনিয়ার বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের মন্তব্যের পর বিরাটের মন্তব্য নিয়ে আলোচনা থামে কিনা।