ছেলেকে তো আর ফিরে পাবো না,একটা ভোটের জন্য যদি হেরে যায় আমার প্রিয় নেতা:রেনুকা মাড্ডি

জেবুন্নেসা খাতুন,পি এম নিউজ,বহরমপুর:
বহরমপুরের স্থানীয় বাসিন্দা রেনুকা মাড্ডি বলেন,ছেলে কে তো আর ফিরে পাবেন না কিন্তু একটা ভোটে যদি হেরে যায় আমার প্রিয় নেতা,এই চরম ক্ষতি কোনমতেই মানতে পারবেন না বহরমপুরের রেনুকা মাড্ডি। তাই ছেলের মৃতদেহ হাসপাতালে রেখেই চললেন ভোট দিতে। বহরমপুরের মাঝদিয়া গোড়াবাজার এলাকার বাসিন্দা রেনুকা মাড্ডি। গতকাল সকাল সকাল ভোট দিতে গিয়ে ছিলেন শ্রীগুরু পাঠশালায়। লম্বা লাইন দেখে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। বাড়িতে তখন অপেক্ষা করছিল তার জীবনের চরম দুঃখের মুহুর্ত। বাড়ি এসে দেখেন তার ছেলে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। সেই সময়ে তার স্বামী রেল কর্মী সদানন্দ মাড্ডি নিজের কাজে বাইরেই ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানায় তার ছেলে রজত মাড্ডি মৃত বলে জানিয়েছেন। ছেলে কে নিয়ে যাওয়া হয় মর্গে। মৃত্যু শোক চেপে রেখে তিনি আবারও যান ভোট দিতে।কারন তিনি মনে করেন তাঁর এক ভোটের জন্য তার প্রিয় নেতা অধীর চৌধুরী যদি হেরে যায় সেটি তিনি মানতে পারবেন না। সেই কারনেই ছেলের মৃতদেহকে হাসপাতালে রেখে অধীর চৌধুকে ভোট দিয়ে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন। আজ সেই খবর যখন অধীর চৌধুরীর কানে পৌছায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান রেনুকা মাড্ডির বাড়িতে, তারপর শুধুই আবেগ ঘন মুহুর্ত, এক অরাজনৈতিক সাধারণ মহিলার নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে নিজের নেতাকে জেতানোর এই প্রচেষ্টা এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল। সব কিছুকে ছাপিয়ে এক অন্য প্রেক্ষাপট রচিত হল বহরমপুরে। আর এই ঘটনা প্রমান হল অধীর চৌধুরী সাধারণ মানুষের মনের ঠিক কোন অংশে থাকেন।