ভাঙড়ের ঋণের দায়ে আত্মহত্যা যুবকের

নিজস্ব প্রতিনিধি,পি এম নিউজ,ভাঙড়: ভাঙড়ের কলুনী গ্রামের বাসিন্দা সুরজিৎ সরকার,বয়স ৩৬, পেশা মবিলের ব্যবসা।
সুরজিৎ সরকারের বাবার নাম পরিতোষ সরকার,পেশা ড্রাইভার।

আত্মহত্যা করার দিন রাত সাড়ে এগারোটায় সময় মায়ের সাথে দেখা করে। সুরজিৎ সরকার মাকে বলে আমার মাথার যন্ত্রণা হচ্ছে।থাকতে পারছি না। কলোনি বাসিন্দারি বলেন, প্রতিদিনের মতন আজ সকাল সাড়ে নটায় মা ছোট ছেলে সুরজিৎ কে ডাকতে যায়। দরজা ধাক্কায় জানালা ধাক্কায়। এরপর মা জানলার ফাঁকা দিয়ে মা দেখেন
তার ছোট ছেলে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। আশেপাশের প্রতিবেশীদের হাঁকডাক করেন। তারা ছুটে এসে দরজা ভেঙে ছোট ছেলের দেহ নামান।

বাড়িতে কান্নার ভেঙে পড়েন মা মিরা সরকার।অপরদিকে বাপ্পার বড় ভাই সহ বাড়ির সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।সাড়ে এগারোটায় ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায থানার পুলিশ। তারা সুজিত সরকারের দেহ নিয়ে নলমুড়ি হাসপাতালের দিকে যান। সেখান থেকে ভাঙড় থানা এরপর মমিনপুর পাঠায়।

সুরজিৎ এর দিদি ঝরনা মন্ডল জানান বেশ কয়েক বছর ধরে ভাই রোগে ভুগছিলেন।পাশাপাশি বাজারে ব্যবসা করতে গিয়ে বহু টাকা মহাজনের কাছে ঋণ করে বসে।আমি ভাইকে বোঝায় আমরা তকে ভেলোর নিয়ে যাব চিকিৎসা করার জন্য। কিন্তু তার আগে এইসব ঘটে গেল।

এই ঘটনার পর থেকে দিদি শোকে ভেঙে পড়েন। বাপ্পার মৃত্যু খবর চাউর হতে পারায় শোকের ছায়া নেমে আসে।ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা পঁচিশে বৈশাখ করবে বলে প্যান্ডেল খাটিয়ে
আয়োজনে প্রস্তুতি নেয়। সেই অনুষ্ঠান তারা বাতিল করেন।

গ্রামের মানুষ বলেন,মা মিরা সরকার ছেলেকে সান্তনা দিতেন বলতেন দেনা আছে তো কি হয়েছে আমি তোর সব দেনা শোধ করে দেব জমি বেচে। তুই ঠিকমতো চিকিৎসা করা।