লাগাতার দুর্নীতি ও কাট মানি ফেরতের দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভে কংগ্রেস

পিএম নিউজ ডেস্ক: অবিলম্বে বিভিন্ন পঞ্চায়েত গুলিতে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে এবং সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের কাটমানি ফেরত দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সহ এগারো দফা দাবিতে সরব হয়ে সোমবার চোপড়ার বিডিওকে স্মারকলিপি দিল ব্লক কংগ্রেস। শুধু স্মারকলিপিই নয়, এ দিন এই বিষয়টিকে সামনে রেখে চললো অবস্থান-বিক্ষোভ। কংগ্রেসের সদস্যদের অভিযোগ, চোপড়া ব্লকের লক্ষ্মীপুর, দাসপাড়া এবং ঘিরনীগাঁও সহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান থেকে শুরু করে সদস্যরা লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে রয়েছে।

একশো দিনের কাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করে তারা আর্থিক নয়-ছয় করেছেন। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাটমানি ফেরত দেওয়ার কথা বললেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে তা কোন ভাবেই পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় তিনশো জন মানুষ যারা ইতিমধ্যেই কাট মানি দিয়েছেন সেই কাটমানি না ফেরত পেয়ে তারা দ্বারস্থ হন বিডিওর কাছে।

বিক্ষোভরত নেতা ফারাজুল ইসলাম জানান, অবিলম্বে দুর্নীতি বন্ধ না হলে এবং কাট মানি ফেরত না পেলে ভবিষ্যতে বিডিও অফিসের গেট ভেঙে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাতেও তারা পিছিয়ে যাবেন না। এমনকি চলতে থাকবে তাদের লাগাতার আন্দোলন। এদিনেই বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, অবস্থান ও ধর্না কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। চোপড়া থানা থেকে পাঠানো হয় বিশাল পুলিশবাহিনী।

সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার অনেকেই বিডিও অফিসে কাজ করতে গেলেও এই অবস্থান এর জেরে তাদের ফিরে যেতে হয়। প্রশাসনিকভাবে অবিলম্বে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বড় ধরনের আন্দোলন সংগঠিত করবার হুমকি দিয়েছেন কংগ্রেসের নেতারা। এদিনের ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ব্লক কংগ্রেস সভাপতি অশোক রায়।যদিও চোপড়ার বিডিওর সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। অভিযোগ তুলে হাতে লাঠি ও ঝাড়ু নিয়ে বিক্ষোভ ফরওয়ার্ড ব্লকের

পিএম নিউজ ডেস্ক: সরকারি প্রকল্পের আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে সোমবার চাকুলিয়া ব্লক অফিসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করল ফরওয়ার্ড ব্লক। এদিন কাটমানি ফেরত সহ একাধিক দাবিতে দলের কর্মীরা হাতে লাঠি ও ঝাড়ু নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি, নয় দফার একটি স্মারকলিপি চাকুলিয়া বিডিওর কাছে জমা দেন। এদিন সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন চাকুলিয়ার বিধায়ক আলি ইমরান রমজ ওরফে ভিক্টোর। তাঁর নেতৃত্বে প্রচুর দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা এদিন চাকুলিয়া থেকে মিছিল করে ব্লক অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান।

এদিকে চাকুলিয়া ব্লকের চারিদিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়। উপস্থিত ছিলেন ইসলাম পুর মহাকুমার একাধিক উচ্চ পদস্থ পুলিশ আধিকারিকরাও। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভিক্টোর জানান, স্বচ্ছ ভারত অভিযান সহ বিভিন্ন প্রকল্পের অধিক শৌচাগার নির্মানের জন্য উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হলেও শৌচাগার নির্মান করা হয়নি। অথচ সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাঁর আরও অভিযোগ ২০১৭ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলির বরাদ্দকৃত অর্থ তালিকা অনুযায়ী সঠিক ভাবে বিলি বন্টন করা হয়নি। সেই টাকা তালিকা বহির্ভূত পরিবার গুলিকে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে সরকারি প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগ আইন মোতাবেক করা হয় না বলে প্রশ্ন তুলেন তিনি। তবে স্থানীয় তৃণমূল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। চাকুলিয়া তৃণমূলের ব্লক শীর্ষ নেতা মিনহাজুল আরফিন আজাদ বলেন, স্বচ্ছ ভারত অভিযান প্রকল্পে তৃণমূলের কোন লোক জড়িত নয়।

বামের কিছু লোক সে প্রকল্পে কাজ করছেন বিষয়টি তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলিকে সরকারি নিয়ম মেনে করা হয়েছে। কোন অনিয়ম করা হয়নি। মিনহাজ বাবু বলেন, বিধায়ক এনআরসি নিয়ে মানুষের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করে লোক জমায়েত করেছেন। অবশেষে তিন ঘণ্টা অবরোধের পর বিডিওর আশ্বাস পেয়ে বিক্ষোভ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। চাকুলিয়ার বিডিও সুপ্রিম দাস বলেন, অভিযোগ গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দু মাসের মধ্যে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।