সদ্য দল পরিবর্তন করা চৌকিদার অর্জুন সিং এর মাথায় হাত!

আকরামুল বাগানি,পি এম নিউজঃ লোকসভা ভোটের আগে বিরাট জয় তৃণমূলের। অন্যদিকে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে চলে গেল বিজেপি। সোমবার 35 আসন বিশিষ্ট ভাটপাড়া পুরসভায় অনাস্থা ভোটে অর্জুন কে হারিয়ে বড় জয় পেল তৃণমূল। যেখানে ১৮ টি ভোট পেলেই বোর্ড বিজেপির দখলে যেত, সেখানে অর্জুন সিং হারলেন ১১-২২ ভোটে।

এরপরই ভাটপাড়া পুরসভার পুর প্রধানের পদ থেকে অপসারিত হন অর্জুন।
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনে শাসকদল। ফলে এদিনের এই অনস্থা ভোট তৃণমূল ও বিজেপি দুই শিবিরের কাছেই ছিল সম্মানের লড়াই। সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলো ঘাসফুল শিবির। অর্জুনকে অনাস্থা ভোটে হারানোর পরেই উল্লাসে ফেটে পড়েন ভাটপাড়ার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা

উল্লেখ্য,লোকসভা ভোটের ফল জানা যাবে ২৩শে মে। তার আগে আজ, সোমবার, আর একটি ‘বড়’ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়ে গেল ভাটপাড়া পুরসভায়। এই ফল লোকসভা ভোটে অর্জুন সিংয়ের ভাগ্যের অনেকটাই প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিন ছিল অর্জুন সিং এর প্রথম অগ্নিপরীক্ষা।এই পরীক্ষায় অর্জুন জয়ী হতে পারলেন না। কিছুটা হলেও লোকসভা ভোটের আগে পিছিয়ে গেলেন তিনি।ভাটপাড়া পুরসভা ৫৩ আসন। বর্তমানে কাউন্সিলরের সংখ্যা ৩৪ একজন কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৩৪ জনের মধ্যে ৩৩ জনই ছিলেন তৃণমূলের। আর একজন সিপিএমের। এর মধ্যে ১৮টি ভোট যার পক্ষে থাকবে, তার হাতেই থাকবে ভাটপাড়া পুরসভা।সেই পরিস্থিতিতে অর্জুনকে হারিয়ে অনস্থা ভোট জিতে নিল তৃণমূল।অর্থাৎ,পুরসভা তৃণমূলের দখলেই থাকলো।শুধু চেয়ারম্যানের পদ খোয়ালেন অর্জুন।
এই অনস্থা ভোটকে কেন্দ্র করে গত দু’দিন ধরেই সরগরম গোটা ভাটপাড়া।আজ সকাল থেকেই পুলিশের পাশাপাশি নামানো হয়েছিল র‍্যাফ।মোট ২৫০ জন পুলিশ আজ মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছে মেটাল ডিটেক্টরও।যে সব প্রতিনিধিরা পুসভায় ঢুকবেন, তাদের প্রত্যেককে বিশেষভাবে পরীক্ষাও করা হবে।

প্রসঙ্গত, অর্জুন সিং জানিয়েছিলেন, “অনস্থা ভোটে বিজেপি জয়ী হবেই। তার দিকে থাকা কাউন্সিলরদেরকে তিনি সরিয়ে রেখেছেন। যদিও বাস্তবে অর্জুন সিং এর কথা প্রতিফলিত হল না।

এদিকে অর্জুন সিংকে পাল্টা জবাব দিতে শাসক দলও তৈরি ছিল। সব মিলিয়ে আজ ভাটপাড়া পুরসভায় কি হয় তা নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছিল সবমহলে। অর্জুন সিং কি শেষপর্যন্ত পারবেন ভাটপাড়া পুরসভার দখল বজায় রাখতে ? নাকি শাসক দলই শেষ কথা বলবে?শেষ হাসি হাসলো জোড়াফুল শিবির।