আয়লা’র স্মৃতি উস্কাল ‘বুলবুল’, এক রাতের দুর্যোগে মৃত ৫ , বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান

আয়লা’র স্মৃতি উস্কাল ‘বুলবুল’, এক রাতের দুর্যোগে মৃত ৫ , বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান

শামিম মোল্যা, পি.এম.নিউজ ৩৬৫, বসিরহাট:  ২০০৯ সালে ২৫ মের আয়লা স্মৃতি উস্কে দিল শনিবারের বুলবুল। বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবন ব্লক সন্দেশখালি হিঙ্গলগঞ্জ বসিরহাটে বুলবুলের তাণ্ডবে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এখানে আহত হয়েছেন প্রায় ১৫ জন। সঙ্গে বাড়তি পাওনা মাত্র কয়েক ঘণ্টায় জমির ফসল থেকে শুরু করে ঘরদোর সব লণ্ডভণ্ড করেছে বুলবুল। ঘটনায় রীতিমতো শোকের ছায়া নেমেছে গোটা এলাকায়।

বসিরহাটে গোকনা গ্রামে বছর চল্লিশের গৃহবধূ রেবা বিশ্বাস শিরীষ গাছ চাপা পড়ে মারা যায়। অন্যদিকে তার স্বামী রঞ্জন বিশ্বাস সহ দুই নাতি আহত হয়েছেন। পাশের গ্রাম মাটনিয়ায় বছর ঊনপঞ্চাশের মইদুল গাজী বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে মৃত্যু হয় সকালবেলা। হিঙ্গলগঞ্জ ব্লক এর মালেকানঘুমটি তে বছর ৬৫ বৃদ্ধা সুচিত্রা মন্ডল ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।

অপরদিকে সন্দেশখালি থানার দাড়ির জঙ্গলে বছর ৫৬ বিদেশি সরদার ঘরে গাছ চাপা পড়ে মারা যায়। একই ব্লকে মথুরা বাজারে আমিনা বেরা বছর পঞ্চাশের ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয়। এখনো পর্যন্ত বসিরহাট মহাকুমায় তিনজন মহিলা দুজন পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ । আক্রান্ত সংখ্যা প্রায় ১৫। সেটাও সংখ্যায় বাড়ছে বলে আশঙ্কা।

উত্তর ২৪ পরগনার পাশাপাশি মেদিনীপুরেও মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। বর্তমানে বুলবুল রাজ্য ছাড়লেও রেখে গিয়েছে ধ্বংসের স্মৃতি৷ শনিবার রাতে ৯টার পর ঘণ্টায় ১১৫-১২৫ কিলোমিটার বেগে বকখালির পূর্বদিকে আছড়ে পড়ে এই ঘূর্ণিঝড়৷ স্থলভাগে ঢোকার পরে এর গতি বেড়ে হয় ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার।

সুন্দরবন হিঙ্গলগঞ্জ সন্দেশখালি বসিরহাট হাসনাবাদ সহ বেশ কয়েকটি ব্লকের দিনে আলো পরিষ্কার হতেই ক্ষতির সংখ্যাটা পরিষ্কার হতে শুরু করেছে ,বহু গাছপালা কাঁচা বাড়ি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

গতকালের ঝড়ঝঞ্ঝার পর দিনের আলো যত পরিষ্কার হচ্ছে ততোই স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, আসছে মৃত্যুর খবর। মানুষের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ। ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে মানুষ যেন ডুকরে কাঁদছে স্বজন হারানোর বেদনায়। পাশাপাশি আহতদের সংখ্যাটাও বাড়ছে। ক্ষতির পরিমাণ যত সময় যাবে ততোই বাড়বে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।