“জয় শ্রীরাম”, ইয়ে লো আজাদি বলে জামিয়ার স্টুডেন্টদের CAA বিরোধী আন্দোলনে গুলি বিজেপির

নিউজ ডেস্ক  : সংবিধান বিরোধী বিতর্কিত আইন CAA এর  আন্দোলনে বন্দুকধারী সন্ত্রাসীর হামলা। জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পড়ুয়াদের মিছিলে চলল গুলি। জখম এক ছাত্র। দিনে-দুপুরে দিল্লি পুলিশের সামনে পড়ুয়াদের উপর গুলি চলার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গুলি চালানোর সময় ‘ইয়ে লো আজাদি’ (এই নে স্বাধীনতা) বলে চিৎকার করে অভিযুক্ত। আর তাতেই রহস্য আরও বেড়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশ।

প্রথম স্লোগান ‘জয় শ্রীরাম’। পরে বন্দুক উঁচিয়ে ‘এই নাও আজাদি!’ দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে CAA বিরোধী মিছিলে গুলি চালানোর আগে এই স্লোগানই দিয়েছিল ‘রামভক্ত’ গোপাল। শুধু তাই নয়, গুলি চালানোর আগে ফেসবুকে লাইভ ভিডিয়ো করেছিল ধৃত যুবক। তার ফেসবুক পোস্টে লেখা, ‘শাহিন বাগ খেল খতম।’

বৃহস্পতিবার জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে CAA, NRC বিরোধী মিছিলের আয়োজন করেছিল। মিছিলটি জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজঘাট পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল। মিছিলের আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক যুবককে হাতে রিভলবার নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। গোটা ঘটনা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় রেকর্ডও হয়।

জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডির ছাত্রী নৈঋতা ঘোষ জানান, “বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ছেড়ে বেরনোর সময় ঘটনাটি ঘটে। আচমকাই এক যুবক চিৎকার করতে শুরু করে, “কারা স্বাধীনতা চাইছে? কারা NRC’র বিরোধিতা করছে?” এরপর আচমকাই বন্দুক বের করে চিৎকার করতে শুরু করে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের অভিযোগ, পুলিশ কার্যত ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বন্দুক হাতে নিয়ে ঘুরতে দেখেও অভিযুক্তকে আটক করেনি বলে। এরপরই মিছিলের এক পড়ুয়াকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় অভিযুক্ত। সেসময় ওই যুবক বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। গুলিটি মাস কমিউনিকেশন বিভাগের স্নাতকোত্তরের এক পড়ুয়ার হাতে লাগে।

দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এমনিতেই CAA বিরোধী আন্দোলনের জেরে উত্তপ্ত দিল্লির রাজপথ।বৃহস্পতিবার একই ইস্যুতে জামিয়ার পড়ুয়ারা মিছিলের আয়োজন করেছে। এই পরিস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁক নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। প্রকাশ্যে এক যুবক হাতে রিভলবার নিয়ে ঘুরছে, অথচ পুলিশের কাছে তার খবরও ছিল না, এমনটাই অভিযোগ পড়ুয়াদের। আবার অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সামনেই মিছিল লক্ষ্য করে গুলি চালাল সে। কী করে এমনটা হওয়া সম্ভব, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।