জঙ্গিদের গাড়িতে জম্বু কাশ্মীরের পুলিশ অফিসার DSP দেবেন্দ্র, আফজাল গুরু সাহায্য কারীও ছিলেন

সাইফুদ্দিন মল্লিক  : রক্ষকই ভক্ষক , সর্ষের মধ্যেই ভূত! জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাস দমন অভিযানে অবদানের জন‌্য গত আগস্টে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার পেয়েছিল DSP দেবেন্দ্র সিং। এরকম এক পুলিশ আধিকারিক কিনা ধরা পড়ল জঙ্গিদের মদত দাতা হিসাবে গাড়ি থেকে! শুধু তাই নয়, ধৃতে এই অফিসারের সঙ্গে সংসদ ভবনে হামলার মূল চক্রী আফজল গুরুর যোগ ছিল বলেও তদন্তে জানা গিয়েছে।

কাশ্মীর পুলিশের আইজি বিজয় কুমারের দাবি, সোপিয়ান থেকে পালিয়ে আসা দুই জঙ্গিকে দক্ষিণ কাশ্মীরে মাটির নিচে গোপন ডেরায় রেখে আসতে যাচ্ছিল দেবেন্দ্র। তাদের গাড়িতে একাধিক একে ৪৭ ও প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। চেকপোস্টে পুলিশের নজরদারি এড়াতে নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিল ওই অফিসার। অভিযোগ, নিজের পুলিশি পরিচয় ভাঙিয়ে জঙ্গিদের এসকর্ট করে নিরাপদে নিয়ে যাচ্ছিল দেবেন্দ্র।

তবে জঙ্গিদের সঙ্গে তাঁর কীভাবে বন্ধুত্ব হল তা ভেবেই অবাক হচ্ছে কাশ্মীর পুলিশ। কারণ কয়েক মাস আগেই জঙ্গি দমন অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন‌্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছিল দেবেন্দ্র। তারপরও দেশের সঙ্গে কী করে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারল সেই প্রশ্নই উঠছে সবার মনে। দেবেন্দ্রর অপরাধকে ‘জঘন‌্যতম’ বলে উল্লেখ করেছে কাশ্মীর পুলিশও। বর্তমানে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে শ্রীনগর বিমানবন্দরে অ‌্যান্টি হাইজ‌্যাক দলের দক্ষ ওই পুলিশ অফিসারকে।

পুলিশের সন্দেহ, কাশ্মীর বিমানবন্দরে কাজের দায়িত্বে থাকার জন‌্য বিভিন্ন দেশ থেকে আসা জঙ্গি ও তাদের মদতদাতাদের সহজেই ভূস্বর্গে ঢুকিয়ে দিত দেবেন্দ্র। বিজয় কুমারের কথায়, ‘একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত অফিসার যে জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তা আমরা জানব কী করে? কেউ ভাবতেই পারিনি উনি এরকম করবেন। ওঁর গ্রেপ্তারির আগে পর্যন্ত কেউ জানতাম না উনি জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এর আগে কতজন জঙ্গিকে উনি এ দেশে ঢুকতে সাহায‌্য করেছেন তা এখনও বুঝতে পারছি না।’

তদন্তে নেমে দেবেন্দ্র সম্পর্কে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। জানা গিয়েছে, ২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর সংসদে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। সেই হামলাতে যুক্ত ছিল দেবেন্দ্র। ষড়যন্ত্রের মূলচক্রী আফজল গুরু তিহার জেলে বসে তার আইনজীবীকে একটি চিঠি লেখে। ওই চিঠিতে নিজের অবস্থার জন্য এই দেবেন্দ্রকেই দায়ী করেছিল সে। সংসদের হামলা জড়িত থাকা এক জঙ্গিকে দিল্লিতে আনা ও তার থাকা-খাওয়ার জন্য দেবেন্দ্রই আফজলকে নির্দেশ দিয়েছিল বলে অভিযোগ জানিয়েছিল। পুলিশ অফিসার হওয়াতে বিষয়টি নিয়ে কেহ সেই ভাবে ভাবেনি এবং এই কথাও বলা যায় ক্ষমতার বলে অভিযোগ তদন্তে পর্জন্ত পৌঁছানি। তখন বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে ধামাচাপা পড়ে যায়।