শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল এলাকা,গাড়িতে আগুন লাগালো উত্তেজিত জনতা

পিএম নিউজ ডেস্ক: পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কার্যত রনক্ষেত্রের চেহারা নেয় চোপড়া থানার দাসপাড়া এলাকা। উত্তেজিত জনতার পাথর বৃষ্টি এবং গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবার ঘটনা নিয়ন্ত্রনে আনতে টিয়ার গ্যাস ছুঁড়লো পুলিশ। ঘটনায় জখম এক পুলিশ আধিকারিক সহ দুই গ্রাম বাসী। রবিবার দুপুরে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় ওই এলাকারই এক শিশুর মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক লরিতে আগুন লাগানোর পাশাপাশি একটি চলন্ত বাসে ভাংচুর চালানোর পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পথ অবরোধ করে রাখে।

এর জেরে শুরু হয় তীব্র যানজট। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া দাসপাড়া ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত শিশুর নাম মহম্মদ জুনেদ (৬)। পাথরের আঘাতে জখম পুলিশ আধিকারিকের নাম পবিত্র কুন্ডু। টিয়ার গ্যাসের সেলে জখম হয়েছে আরও দুই গ্রামবাসী। ঘটনাস্থলে দ্রুত দমকলবাহিনী পৌঁছে আগুন নিভিয়ে দেয়৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে চোপড়া থানার বিশাল পুলিশবাহিনী নামে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর ১২ টা নাগাদ চোপড়া থানার দাসপাড়া এলাকায় ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে রাস্তা পার হতে গিয়ে শিলিগুড়ি থেকে রায়গঞ্জগামী একটি পিকআপ ভ্যান মহম্মদ জুনেদ নামে এক শিশুকে ধাক্কা মারে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ওই শিশুটিকে স্থানীয় দলুয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে। এরপরই উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে একটি বাসেও ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত মানুষজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে চোপড়া থানার পুলিশ। ইসলামপুর থেকে ছুটে আসে দমকলবাহিনীও। আগুন নেভানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুলিশ। ঘাতক পিকআপ ভ্যানের চালক ও খালাসি পলাতক। পুলিশ পিকআপ ভ্যানটিকে আটক করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলম জানিয়েছেন, “ওই এলাকায় রাস্তার পাশে একটি চায়ের দোকানে আমরা কয়েকজন গল্প করিছিলাম।একটি বাচ্চা রাস্তার এপার থেকে ওপারে যাওয়ার জন্য রওনা হতেই শিলিগুড়ির দিক থেকে একটি পিক আপ ভ্যান প্রচন্ড গতিতে এসে বাচ্চাটিকে ধাক্কা মারে।জনবহূল ওই এলাকা দিয়ে প্রচন্ড গতিতে যানবাহন চলাচল করে।এর ফলে কার্যত নিত্যদিন দূর্ঘটনা লেগেই থাকে।এই নিয়ে বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে বেশ কয়েকবার গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে অনুরোধ করা হয়েছিলো। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয় নি। এদিন দূর্ঘটনায় বাচ্চাটির মৃত্যূর পরে স্থানীয় বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়ে ভাংচুর চালায়।’’