বিজেপি না করার ফতোয়া দিলেন ইমামরা পাল্টা প্রশ্ন বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের

পিএম নিউজ 365 ডেস্ক: মুসলিমরা বিজেপি বা আরএসএস করবে কিনা তা নিয়ে বেঙ্গল ইমামস অ্যাসোসিয়েশনের ফতোয়াকে উড়িয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি আলি হোসেন। বরং তাঁর দাবি, “এবার সদস্য সংগ্রহ অভিযানে ৫ গুন মুসলিম সদস্য বাড়বে। ইতিমধ্যে ৭৫ হাজার সদস্য হয়ে গিয়েছে। আর এভাবে ফতোয়া জারি করে রাজনৈতিক দলকে আটকানো যায় না।”

বেঙ্গল ইমামস অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট জানিয়েছে, আরএসএস বা বিজেপি করা মানে মুসলিম ধর্মের শত্রুদের হাত শক্ত করা। মুসলিমদের আরএসএস ও বিজেপি করা নিয়ে এক প্রকার ফরমান জারি করেছে ইমামদের এই সংগঠন। বিজেপির দাবি, “তৃণমূল কংগ্রেসের নুন খেয়ে ইমামদের একাংশ গুণ গাইছে। তৃণমূলের শেখানো বুলি আওড়াচ্ছে তাঁরা। ইমাম ভাতা বন্ধ করে বেকার ভাতা দেওয়া হোক। সেখানে মুসলিমারাও ভাতা পাবে।” আলি হোসেন আরও বলেন, “ওরা ফরমান জারি করেছে কোনও মুসলিম বিজেপি বা আরএসএস করতে পারবে না। ওরা কোন হাদিস থেকে বলল? কোন কোরান শরিফ থেকে বলল? এসব মনগড়া কথা। বিশ্বের কোনও ধর্মগ্রন্থে রাজনীতি করায় নিষেধাজ্ঞা নেই। মুসলিমরা বিজেপি করলে বাধা আর তৃণমূল করলে বাধা নেই!”

সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যে ঘর গুছানো, ঘর ভাঙানোর খেলা চলছে। এ রাজ্যে বিজেপি ৩ কোটি সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। সংখ্যালঘু সেলের প্রধান বলেন, “গতবছর ৪ লক্ষ মুসলিম সদস্য হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে ৭১টি বিধানসভা আসনে ২০ লক্ষ সদস্য করবে বিজেপি। ইতিমধ্যে ৭৫ হাজার সদস্য হয়ে গিয়েছে। রাজ্যে ৪০টা বিধানসভায় ৫০ শতাংশের ওপর সংখ্যালঘু আছে। প্রতিদিন মুসলিমরা যোগ দিচ্ছে বিজেপিতে।”

সম্প্রতি ফুরফরা শরিফের আব্বাস সিদ্দিকির ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল বিধায়ক সওকত মোল্লার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে পথ অবরোধ হয় বিভিন্ন জায়গায়। আলি হোসেনের বক্তব্য, “ইমাম অ্যাসোসিয়েশন ফতোয়া জারি করছে, অথচ পীরজাদা আব্বাস সিদ্দীকিকে আক্রমণ করছে তৃণমূলের সওকত মোল্লা। এখানে তো দুজনই মুসলিম সম্প্রদায়ের। তাহলে এমন ঘটনা কেন ঘটছে? বরং বাংলায় অশান্তি না করে উন্নয়নে সবাই হাত মেলান।”

রামমন্দির নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিলেও বিতর্ক অব্যাহত। নরেন্দ্র মোদীর উদ্বোধন নিয়েও সমালোচনা চলছে। আলি হোসেন বলেন, “নরেন্দ্র মোদী বিজেপির পক্ষ থেকে রামমন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যাননি। তিনি সেখানে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে যোগ দিয়েছেন। বিজেপি চায় সব ধর্মের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে চলতে। যাঁরা এসব করছে তাঁরা বিশৃঙ্খলা চাইছে। ইমামদের একটা অংশ পরিকল্পনা করেছে মুসলিমরা যাতে বিজেপি না করে। একথা বলে বিজেপিকে আটকাতে পারবে না।”

সৌজন্য: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা