মোদি গো-ব্যাক স্লোগানে কলকাতার বিভন্ন স্থানে প্রতিবাদের ঝড়

জিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে উত্তাল হল কলকাতা। শনিবার দিনভর বিক্ষোভে অংশ নিলেন পড়ুয়া থেকে শুরু করে মানুষ। বিকেলে কলকাতা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছন মোদি। তার আগে থেকেই সিএএ, এনআরসির বিরোধিতায় বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ, অবরোধ। পতাকা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, সাদা–কালো বেলুনে জানানো হয় প্রতিবাদ। ভগৎ সিংয়ের ছবি আঁকা পতাকা সামনে রেখে মিছিল করেন পড়ুয়ারা।

ধর্মতলা থেকে শুরু করে নন্দন চত্বর, বিমানবন্দর, যাদবপুর, গোলপার্ক, কৈখালি, কলেজ স্ট্রিট, হেস্টিংস মোড়— সর্বত্রই বিক্ষোভ, প্রতিবাদে স্লোগান উঠল ‘‌গো ব্যাক মোদি’‌‌। বন্দে মাতরম, ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানে মুখরিত হয় প্রতিবাদ জমায়েত। হাতে জাতীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, কালো বেলুন। রাজনৈতিক নেতারা সামনের সারিতে ছিলেন না। বিভিন্ন বিক্ষোভ মিছিল এসে মেশে ধর্মতলায়। প্রবীণরাও শামিল হন। চোখে কাপড় বেঁধেও অনেকে মিছিল করেন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের শহরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হবে না, বলেন ছাত্ররা। ডোরিনা ক্রসিংয়ে পড়ুয়াদের মিছিল আটকে দেওয়া হয়। যাদবপুরে ‘‌গো ব্যাক মোদি’, ‘‌স্টুডেন্টস এগেনস্ট ফ্যাসিজম’‌ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে পড়ুয়াদের মিছিল হয়। কলেজ স্ট্রিটে পড়ুয়ারা জানান, যতক্ষণ মোদি কলকাতায় থাকবেন, ততক্ষণ বিক্ষোভ চলবে। গোলপার্কে সংবিধান পাঠ করা হয়। রাস্তায় লেখা হয় নো এনআরসি, নো এনপিআর, নো সিএএ। কালো বেলুন ওড়ে। বিমানবন্দরের বাইরে সকাল থেকে বিক্ষোভ চলে। মোদি বিমানবন্দরে নামার পর তা চরমে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা আড়াই নম্বর গেটের দিকে এগোলে, পুলিশ বাধা দেয়। বন্ধ হয়ে যায় ভিআইপি রোডে যান চলাচল। হেস্টিংস মোড়েও বাম, কংগ্রেস বিক্ষোভ দেখায়। তৃণমূলও কয়েক জায়গায় মানববন্ধন করে। রেসকোর্সে মোদির কপ্টার নামার সময় বিক্ষোভকারীরা চলে যান দ্বিতীয় হুগলি সেতুর দিকে। সেখানে কালো পতাকা দেখানো হয়। হাতে ভারতের ম্যাপ আঁকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘‌আমরা ভারতের নাগরিক’‌। স্লোগান ওঠে ‌‘‌প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা থাকলে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাও।’‌‌ যশোর রোডে ‘‌নো ডিটেনশন ক্যাম্প’‌ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ হয়।‌‌ জাতীয় পতাকা হাতে গান গেয়ে, বাজনা বাজিয়ে প্রতিবাদে শামিল হন পড়ুয়ারা। ডোরিনা ক্রসিংয়ে সারা রাত বিক্ষোভ চলে।

এসএফআই গোলপার্ক, ধর্মতলা, যাদবপুর, বিমানবন্দর, হাতিবাগান, কলেজ স্ট্রিটে বিক্ষোভ দেখায়। রাজভবন, গ্রেট ইস্টার্ন হোটেলে সামনে যুব কংগ্রেস, ছাত্র পরিষদের তরফে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিভিন্ন বিক্ষোভে শামিল হন যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন কলেজের পড়ুয়ারা।‌‌‌‌‌‌ বাম – কংগ্রেসর সাথে যুক্ত ছিল আটটি সামাজিক সংগঠনও। গতকালের প্রতিবাদকে রাজনৈতিক নয় এটা ছিল বিতর্কিত আইনে বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ।