পার্ক সার্কাসে মৃত মহিলা ভারতীয় নাকি বাংলাদেশী ? প্রশ্ন তূলিলেন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু

নিউজ ডেস্ক : অবস্থা আন্দোলনে শহীদ হলেন কলকাতার মেয়ে। কলকাতার পার্ক সার্কাসে সিএএ বিরোধী আন্দোলনরত মৃত মহিলা বাংলাদেশি বলে দাবি বিজেপির। দিল্লির শাহিনবাগের মতো কলকাতার পার্ক সার্কাসে গত ২৬ দিন ধরে ধর্না দিচ্ছেন প্রতিবাদীরা। এই ধর্নামঞ্চেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় এক প্রৌঢ়ার।

মৃতার নাম সমিদা খাতুন ( ৫৭ )। জানা গিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ আচমকায় বুকে যন্ত্রণা শুরু হয় এন্টালির বাসিন্দা শামিদার। অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ধর্নামঞ্চে উপস্থিত অন্যরা তাঁকে নিয়ে যান চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে। কিন্তু যাওয়ার পথে রাস্তাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।

এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, তিনি বাংলাদেশি ছিলেন কী? কারণ, ওখানে বেশিরভাগ লোকজন বাংলাদেশ থেকে এসে বসে আছে। যে মহিলার মৃত্যু হয়েছে তাঁকে আগে চিহ্নিত করুন ভারতীয় না বাংলাদেশি। যত আন্দোলনই হোক সিএএ এর কোনও পরিবর্তন হবে না বলেও এদিন দাবি করেন সায়ন্তন। তিনি বলেন, “ওইখানে বাংলাদেশ থেকে যারা বসে আছে তাদের আমরা দেশ থেকে তাড়িয়ে দেব।”

সায়ন্তন বসু আরও বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যাঁর কাজ বিভ্রান্তি দূর করা তিনি নিজেই বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। আমরা বারবার বলছি ভারতীয় মুসলমান হলে তার কোন চিন্তার কারণ নেই, কিন্তু বাংলাদেশী মুসলমান হলে চিন্তার যথেষ্ট কারণ আছে। বাংলাদেশি হিন্দুদের আমরা কোনও কাগজ না দেখেই নাগরিকত্ব দেব। এতে কোনো বিভ্রান্তি নেই। সমস্যা হচ্ছে এক থেকে দেড় কোটি যেমন বাংলাদেশি হিন্দু উদ্বাস্তু এসেছেন তেমনি এক থেকে দেড় কোটি বাংলাদেশি মুসলমান অনুপ্রবেশকারী এসেছেন।”

এই প্রসঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেন সায়ন্তন। তিনি বলেন, মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার লিস্ট থেকে যখন বাদ দেওয়া হবে তখন তৃণমূল দলটাই উঠে যাবে। এই ভয়ে আতঙ্কিত হয়েই মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

বিজেপি যখন শামিদার নাগরিকত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তখন শোকের ছায়া ধর্নামঞ্চে। জানা গিয়েছে, সবাই ঠিক করেছেন অন্তত আজকের দিনটা কোনও স্লোগান ছাড়া ধর্না দেওয়া হবে। পরে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী রূপরেখা ঠিক করা হবে।