শিক্ষক দিবসে নাবালিকার বিয়ে রুখলেন সাতুলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকরা

শিক্ষক দিবসে নাবালিকার বিয়ে রুখলেন সাতুলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকরা

পিএম নিউজ,ভাঙড়: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ের সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর এক মেধাবী ছাত্রী প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ার সত্বেও পরিবারের লোকজন তার অনিচ্ছাতে বিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় করেছে। ছাত্রটি নিরুপায় হয়ে মেনে নিতেই হচ্ছে এই ভেবে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান শেষে সবাই হাঁসি মুখে বাড়ি ফিরছে। দশম শ্রেণির ওই ছাত্রি বাড়ি না ফিরে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কাঁনছে। একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর নজরে পড়তে তার কাছে সহানুভূতি সহকারে এগিয়ে যায়। কানছো কেন? তখন সে বললো আমার আব্বা আজ আমাকে বিয়ে দিয়ে দেবে। সেকি? তুমি হেড স্যারের সাথে বলোনি কেন? আমি বলতে পারিনি। তুমি একটু উপকার করতে পারবে? আমার আব্বার নম্বর দিচ্ছি তুমি হেড স্যারকে বলোনা প্লিজ। ওই ছাত্রী তাড়াতাড়ি বাড়িতে এসে তার আব্বাকে দিয়ে হেড স্যারকে ফোন করায়। এখানে থেকেই হেড স্যার সেখ গোলাম মহিনুউদ্দিনের তৎপরতায় ছাত্রীর বিয়ে রোখা সম্ভব হয়। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে বিবাহ মজলিশে হাজির হয় মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধিদল মাও আব্দুল মোমিন, মাও রফিকুল ইসলাম, মাও আবুল হাসেম, নাইমুল ইসলাম রাকিবুল ইসলাম তাঁরা পরিবারের সকলের সাথে কথা বলে এদিনের বিয়ে রুখে দিতে সক্ষম হয়।

তার পরিবারের লোকেরা শিক্ষকদের কথাকে মান্যতা দিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন।
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক শেখ গোলাম মইনুদ্দীন বলেন, “ছাত্রীটি অত্যন্ত মেধাবী এবং পড়াশোনায় মেধাসম্পন্ন , সে ভবিষ্যতে অনেক কিছু করবে বলে আমরা আশাবাদী ।তাই যেমন আইনি দায়বদ্ধতা রয়েছে তার পাশাপাশি তার ভবিষ্যতকে সামনে রেখেই এই বিয়ে বন্ধ করার জন্য আমরা আমাদের শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি তাদের বাড়িতে পাঠালে তারা তাদেরকে বোঝাতে সক্ষম হয়”।

এ বিষয়ে প্রশাসনের দপ্তরের খবর পৌঁছেছে,প্রশাসন এ বিষয়ে যথেষ্ট সজাগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে যে প্রতিনিধি দল ছাত্রিটির বাড়িতে গিয়েছিল তারা সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

ছাত্রীটি পি এম নিউজকে জানিয়েছে সে পড়তে চায়। তবে গতকাল আমার আব্বা আমাকে ডেকে বিয়ের কথা বলে আমি কিছু বলতে পারিনি। কারণ আব্বার দারিদ্র্যতার কাছে হার মানতে হচ্ছে।