পশ্চিমবঙ্গের বেকার সমস্যা ও আমাদের দায়বদ্ধতা

পশ্চিমবঙ্গের বেকার সমস্যা ও আমাদের দায়বদ্ধতা

সুর্যকান্ত জানা, পি.এম.নিউজ ৩৬৫,ডিজিটাল ডেস্ক:মনে একটাই প্রশ্ন জাগে পশ্চিমবঙ্গের বেকার সমস্যা দূরীকরন করা কি সম্ভব? বেকারত্ব হচ্ছে বেদনার গিরিপথ, দুঃখের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, হাহাকারের সর্বোচ্চ চূড়া, হতাশার মহাসাগর। যা পরিবার, সমাজ, দেশ, জাতির জন্য এক আতঙ্কের প্রতিচ্ছবি।

বেকারত্ব হলো অনিচ্ছাকৃত কর্মহীনতা। এমন ব্যক্তিকে বেকার বিবেচনা করা হয় যিনি সক্রিয়ভাবে কাজের সন্ধান করা বা কাজের জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও কোনো কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেনি।

হলফ করে বলতে পারি বুক ভরা আশা নিয়ে, হৃদয়ের সব উৎসাহ নিয়ে, দুচোখের কল্পনা দিয়ে প্রতিটা মানুষই চায় সে যেন বেকার না থাকে। তবে কেন দিন দিন বেকারত্বের পরিমাণ ক্রমাগত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে?

বিস্মিত হওয়ার বিষয় শুধু পশ্চিমবাংলা নয় দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ শিক্ষিত। শুধু শিক্ষিত নয়, অধিকাংশই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার।

প্রচুর পরিমাণে ডিগ্রি অর্জনের সংখ্যা দৃষ্টিগত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থা সঙ্গতিপূর্ণ না হওয়ায় দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতি বছরই উচ্চশিক্ষা নিয়ে শ্রমবাজারে আসা শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক বেকার থাকছে। অথচ শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য স্বাবলম্বী করে তোলা, দরিদ্রতা হ্রাস করা।

শিক্ষিত যুবসমাজ শিক্ষাকে চাকরি লাভের মাধ্যম হিসেবে ভাবছে। ফলে আত্মকর্মী হওয়ার অভিপ্রায় বিলুপ্তের পথে।

আত্মকর্মসংস্থানে যুব শ্রেণির অনীহার অন্যতম কারণ আত্মকর্মী হওয়াকে সমাজে উপযুক্ত মূল্যায়ন না করা। দেশের বিদ্যাপীঠসমূহ থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে আত্মকর্মী হবে তা পরিবার মানতে চায় না।

পরিবার থেকে আগত মানসিক চাপের কারণে ব্যক্তির হতাশা হয় আরো বেগবান। ফলে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় শিক্ষিত যুব সমাজ সরকারি চাকরির পেছনে দৌড়াচ্ছে। কিন্তু সরকার মোট বেকার জনগোষ্ঠীর কত শতাংশ ব্যক্তির জন্য চাকরি নামক সোনার হরিণের ব্যবস্থা করবে?